অভিযান হলেও নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত হচ্ছে না

এম সাইফুল ইসলাম
কেসিসির উদ্যোগে নগরীতে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু অবৈধ দখল মুক্ত হচ্ছে না। কোন অভিযানেই সফলতা আসছে না। সকালে অভিযান চালালে বিকেলে সেখানে অভিযানের বিন্দুমাত্র চিহ্ন থাকে না। এরপর প্রায় দু’মাস নেই অভিযান।
নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিববাড়ী মোড় থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত মজিদ সরণী চায়ের দোকান, অস্থায়ী হকার, প্রাইভেট হসপিটাল ও দলীয় কার্যালয়ের দখলে। মজিদ সরণীর কেডিএ মোড়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ এর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় এবং একই রোডের ফুটপাত দখল করে আছে শ্রমিক লীগের কার্যালয়। এই সড়কে গাজী মেডিকেল হাসপাতালের সামনের সড়ক অধিকাংশ সময়ে গাড়ি দখল করে রাখে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলন এর মহাসচিব সজিব মোলা জানায়, ফুটপাত দখল ও যেখানে সেখানে পার্কিং যানজটের প্রধান কারণ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। এছাড়া ময়লাপোতা মোড় থেকে নিরালা-গলামারী সড়কের দু’পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান। এখানে ময়লাপোতা মোড়ের কয়েকশ’ গজের মধ্যে সড়ক ও জনপথের জায়গায় গড়ে উঠেছে ফাস্ট ফুড, মিনি চাইনিজ রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী পান-সিগারেট বিক্রির দোকান। সন্ধ্যা বাজারের সামনের সড়কের বসে মাছ ও সবজি বিক্রির দোকান। অটোরিক্সা, রিক্সা ভ্যান, ট্রাক ও প্রাইভেটকারে যানজট লেগে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। শিববাড়ী মোড়ে জিয়া হল ও যাদুঘরের সামনে ফুটপাত দখল হয়ে গেছে বহু আগেই। শীতকালীন পিঠার চুলা ফুটপাতের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠায় পথচারীদের চলাচলের কোন উপায় নেই। সিটি কর্পোরেশনের সূত্র অনুযায়ী, নগরীতে পাকা সড়ক আছে তিনশ’ কিলোমিটার। এর মধ্যে সড়কের দু’পাশে ফুটপাত দুশ’ কিলোমিটার। এ সব ফুটপাত পথচারীদের চলাচল নির্বিঘœ করতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে তৈরি হলেও তা এখন নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল বিঘিœত হবার পাশাপশি বাড়ছে যানজট। নগরীর ডাকবাংলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অফিস-আদালত, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্রসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। নগরীসহ ৯ উপজেলার বাসিন্দাদের নানা প্রয়োজনে ডাকবাংলোস্থ সড়কগুলো ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু হকারা ডাকবাংলোয় সড়কের ফুটপাত ও গাড়ি পার্কিং এর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল বিঘিœত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। রূপসা ফেরিঘাট মোড় থেকে রয়েল মোড় হয়ে ডাকবাংলা মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক, শিশু হাসপাতাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, ক্লে রোড, মহারাজ চত্বর, স্টেশন রোড, কদমতলা রোড সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে চার-পাঁচ ফুট চওড়া ফুটপাত থাকলেও তা দিয়ে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ কম।
কেসিসির এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, ধারাবাহিকতা রক্ষা না করার কারণে উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে। নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট এর স্থানান্তর এবং নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ না পাওয়া অনিয়মিত অভিযানের কারণ বলে তিনি জানান। তবে তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ডিসি অফিসের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে হকারদের দখলে থাকা ফুটপাত ফের দখলমুক্ত করা হবে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top