খুলনা ওয়াসায় নিয়োগ বাণিজ্যসহ অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে

খুলনা ওয়াসায় নিয়োগ বাণিজ্যসহ অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
খুলনা ওয়াসায় নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী সপ্তাহে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সরদার আনিসুর রহমান পপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ খুলনা ওয়াসায় ৭০ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে স্থায়ীকরণ এবং ১৭ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ এবং লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে নিয়োগ বোর্ডের বিরুদ্ধে। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্তও গড়ায়। বহুলালোচিত এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়। সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ খুলনা ওয়াসা বোর্ডের ৪৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কয়েকজন সদস্য নিয়োগ বাণিজ্যসহ অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। জানতে চান এসব বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা। ব্যাপক আলোচনার পর বোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামানের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে বোর্ড সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরদার আনিসুর রহমান পপলুকে। অপর চার সদস্য হলেন বোর্ড সদস্য এবং খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, কেসিসির ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আমিনুল ইসলাম মুন্না, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম তাপষ এবং ওয়াসার উপ-পরিচালক (প্রকৌশল) এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটির প্রধান সরদার আনিসুর রহমান পপলু এ প্রতিবেদককে বলেন, নিয়োগ বাণিজ্যসহ অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তারা এখনও অফিসিয়াল চিঠি হাতে পাননি। রোববার পাবেন। চিঠি পাওয়ার পরই আগামী সপ্তাহে কমিটির মিটিং ডাকা হবে। মিটিং করেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে, তদন্ত কমিটি গঠনের খবরে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই এমডির কথা বলে ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে চাকরিপ্রাপ্তদের ডেকে ‘কোন প্রকার দুর্নীতি হয়নি’ মর্মে জোরপূর্বক লিখিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অস্থায়ী কর্মরতদের কাছ থেকেও এ ধরণের লিখিত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে, নিয়োগ ও পিকনিক বাণিজ্যের পর এবার ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বৈশাখ’ বাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠেছে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top