খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি কোন পথে

খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি কোন পথে

স্টাফ রিপোর্টার
‘খুলনা জেলার ঐতিহ্যের ১৩৫ বছর পূর্তি’ উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে আবারো আলোচনায় এসেছে বিভক্ত খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। দুই পক্ষই দিবসটিকে ঘিরে শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
তবে এসব কর্মকা-ে সচেতন নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন আসছে-‘খুলনার উন্নয়নের দাবিতে দ্বিধা-বিভক্তি কেন’ ‘এর পেছনে রহস্য কোথায়’ ‘কেন একই নামে আলাদা কমিটি’ ‘খুলনার উন্নয়নের ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে কার স্বার্থ হাসিল হচ্ছে’। এমনকি সংগঠনের বিতর্কিত কর্মকা-ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা গুঞ্জন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে খুলনার দাবি আদায়ের অন্যতম এই সংগঠনকে নিয়ে দ্বন্দ্ব আর অবিশ্বাস প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে এরই মধ্যে দাবি উঠেছে কমিটির গঠণতন্ত্র, তাদের সদস্য তালিকা, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের।
জানা যায়, খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন। বর্ধিত পৌরকর প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ১৯৮৯ সালে এ সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে। সেসময় কমিটির আহবায়ক ছিলেন মরহুম আবু মোহাম্মদ ফেরদৌস। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংগঠনের কমিটি (২য় পৃষ্ঠায়)
গঠন করা হয়। মূলত এরপর থেকেই ভাঙতে থাকে পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস। তবে এরই মধ্যে সংগঠনটির নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠন পরিচালনা, আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি, নীতি-আদর্শের লড়াই, সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া, ব্যক্তি স্বার্থে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন-এরকম নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে সংগঠনটিকে ঘিরে। খুলনায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, বিমানবন্দর স্থাপন, মাওয়া-খুলনা-মোংলা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, খুলনায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের প্রসার, রিভারভিউ রোড ও পার্ক নির্মাণ, বিমানবন্দর বাস্তবায়ন ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়ন এসব আন্দোলনের পেছনে দু’পক্ষের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব হতাশা তৈরি করেছে খুলনাবাসীর মধ্যে।
উন্নয়ন কমিটিতে বিভক্তি : আলহাজ মোশাররফ হোসেন ও শেখ আশরাফ উজ জামানের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনের একাধিক সদস্যদের অভিযোগ চাঁদা পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিনে কমিটির সভায় তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। কমিটির কোন কর্মসূচিও সাধারণ সভায় আলোচনা হয় না। কোন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এখানে।
আলহাজ লোকমান হাকিম ও এসএম সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, খুলনার উন্নয়নের দাবিতে এই সংগঠনের সকল সদস্যদের সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকা উচিৎ। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিৎ।
এই গ্রুপের মহাসচিব এসএম সোহরাব হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে খুলনার প্রধান দুই সঙ্কট ‘ওয়াসার পানি ও জলাবদ্ধতা’। কিন্তু এই নিয়ে কারো কথা বলার সুযোগ নেই। চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মসূচি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন হলে এই সংগঠন একদিন অস্তিত্ব হারিয়ে বসবে।
আলহাজ মোশাররফ হোসেন ও শেখ আশরাফ উজ জামান পক্ষের মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান মনে করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই ওই পক্ষটি নানাভাবে তাদেরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি : খুলনা উন্নয়ন কমিটিকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনায় ২০১২ সালের পর থেকেই অনৈক্য চলতে থাকে। তবে ২০১৬ সালের শেষের দিকে আলহাজ লোকমান হাকিম ও এসএম সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পাল্টা কমিটি ঘোষণার মধ্যে দিয়ে দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে দায়ী করে বক্তব্য-বিবৃতি দেয়া শুরু করে। এমনকি পরস্পরকে দোষারোপ করে কারা মূল সংগঠন প্রমাণের জন্য আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। এ অবস্থায় খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির গঠণতন্ত্র, তাদের সদস্য তালিকা, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। খুলনার শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি কিছু সুযোগসন্ধানী নেতা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই সংগঠনকে যেন ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top