বেপরোয়া মাহিন্দ্রা-অতুল-পিয়াজিও

বেপরোয়া মাহিন্দ্রা-অতুল-পিয়াজিও

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
রূপসা থেকে ফুলতলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা-অতুল-পিয়াজিও। চলছে দানবের মত বেপরোয়া গতিতে। বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বোঝাই করছে অধিক সংখ্যক যাত্রী, আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। এসব বাহনের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
এদিকে, থ্রি হুইলারের অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাড়া আদায় এবং বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিকবার সিদ্ধান্ত হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে অভিযান পরিচালিত হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হালকা যানবাহন হিসেবে মাহিন্দ্রা-অতুল ও পিয়াজিও থ্রি হুইলারগুলো নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে ফুলতলা পর্যন্ত চলাচল করছে। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড়গুলো পানিতে তলিয়ে থাকছে। এ অবস্থাতেও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে মাহিন্দ্রা-অতুল। অদক্ষ চালকদের হাতে স্টিয়ারিং থাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দু’ দশকেরও বেশি সময়ের পুরনো টু স্ট্রোক বেবীট্যাক্সিগুলো ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মহানগরীতে চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। অতিরিক্ত শব্দ ও দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় সেগুলো ছিল পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এরপর টু স্ট্রোক’র পরিবর্তে রাস্তায় নামানো হয় ভারতের মাহিন্দ্রা ও অতুল কোম্পানির থ্রী হুইলার ট্যাক্সি। কিন্তু দেখা গেল এই গাড়িগুলোতে বেবীট্যাক্সীর তুলনায় দ্বিগুণ আওয়াজ। যা যাত্রীদের কাছে অসহনীয়।
মাহিন্দ্রা ও অতুল’র ব্যাপারে যাত্রীদের অভিযোগ, এতে আসন সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হয়। বিশেষ করে গাড়ির পেছনের সারিতে তিনজনের আসন থাকলেও সেখানে বাধ্যতামূলক চারজন বসানো হয়, যা তাদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব গাড়িতে চালকসহ কমপক্ষে সাতজন, কোন কোন সময় নয়জনও ওঠানো হয়। অথচ অনুমতি আছে চালকসহ মাত্র চারজনের। তাই চারজনের পরিবর্তে সাত থেকে নয়জন ওঠানো হলে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
ফুলতলা-খুলনা রুটে নিয়মিত চলাচলকারী পথের বাজার এলাকার মো. আবু দাউদ ও মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় কাজে শহরে আসতে তাদের থ্রি হুইলারে চরম ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। তিনজনের স্থানে চারজন বসতে গেলে অনেক চাপাচাপি করতে হয়। এ কারণে প্রায় সময়ই পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আর মোটা স্বাস্থ্যের যাত্রী হলে কোনভাবেই চারজন বসা সম্ভব হয় না। এছাড়াও মহিলা যাত্রী বসলে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় অন্যান্য যাত্রীদের। এরপরও চারজন ওঠানো হয়। এছাড়া ৯০ ভাগ চালকের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। কিছু বলতে গেলে চালকরা যাত্রীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর ব্যাপারে চালকদের যুক্তি, গাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে তাদের অতিরিক্ত যাত্রী ওঠাতে হয়।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) খুলনার সহকারী পরিচালক এ এস এম কামরুল হাসান বলেন, চলতি বছর পর্যন্ত মাহিন্দ্রা, অতুল ও সিএনজি মিলিয়ে ১১শ’ গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। এসব গাড়ির সক্ষমতা ও আকার বিবেচনা করে চালকসহ চারজন যাত্রী বহন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা বেআইনী। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে মাঝে-মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ট্রাফিক বিভাগকে বিষয়টিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
চালকদের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বিআরটিএ’র এ কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় চালকদের লাইসেন্স প্রয়োজন হয়না। কিন্তু মালিকরা লাইসেন্স বিহীন চালকদের কাছে ভাড়া দেয়। তবে লাইসেন্স বিহীন চালকদের লাইসেন্স করতে মালিক সমিতি এবং চালক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। না মানলে জরিমানা করা হচ্ছে

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top