ধানের উপযুক্ত দাম পেয়েও হাসি নেই কৃষকের মুখে

ধানের উপযুক্ত দাম পেয়েও হাসি নেই কৃষকের মুখে

আহাদ আলী, আড়ংঘাটা
চলতি বছর ধানের সন্তোষজনক মূল্য পেলেও কৃষকের মুখে হাঁসি নেই। শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এছাড়া ভাইরাসজনিত ব্লাস্ট রোগের আক্রমন বেশি হওয়ায় বেশ ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের।
সরেজমিনে আড়ংঘাটা বাইপাস মোড়, শলুয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ক্রেতার পরিমান বেশি এবং উপযুক্ত দামে ধান বিক্রি করতে পেরে কৃষকেরা খুশি। কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরকারী খাদ্য গুদামগুলোতে ধান না দিয়ে ব্যয়সায়ীদের কাছে ধান বেশি বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে । কারণ হিসেবে ধান বিক্রি করতে আসা শলুয়া নিমতলা গ্রামের কৃষক নিরান ঢালী বলেন, সরকারী খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে বিভিন্ন সমস্যার সমুখিন হতে হয়। এতে অনেক খড়কুটা পোহাতে হয়, বিধায় ঝামেলামুক্তভাবে বাজারে ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছি।
বাজার ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ২৮ ধান ৯২০ টাকা, মোটা হাইব্রিড ধান ৮৮০ টাকা দামে বিক্রি করছে কৃষকরা। সরকারী খাদ্যগুদামগুলোতে ধান দিলে মূল্য হিসেবে ৯৫০ টাকা পাবেন কৃষকেরা।
শলুয়া বাজারে ধান ব্যবসায়ী মুজির মোড়ল জানান, চলতি বছর বোরা ধান কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফিরিয়ে দিয়েছে। সেই সাথে সাধারণ কৃষকরা রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে কষ্টে উপার্জিত সোনালী ফসলের ধান উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে পেরে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশখালি বিলের কৃষক মফিজ শেখ জানান, এবছর ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। হঠাৎ অজানা ব্লাস্ট ভাইরাসের আক্রমণে বেশ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে উপরওয়ালা দিলে কিছুই করার থাকে না বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান। দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও কৃষকগণ উপযুক্ত দামে তাদের ধান বিক্রি করতে পারছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে।
দিঘলিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, দিঘলিয়া উপজেলাতে খাদ্য গুদাম না থাকায় তারা ধান সংগ্রহের কাজ করছেন না।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top