বাঁধের মাটি চুরি করে ইট ভাটায়

বাঁধের মাটি চুরি করে ইট ভাটায়

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার হাজী গ্রামে আতাই নদীর তীরবর্তী সান ব্রিকস নামক একটি ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ব্যাপক পরিমাণ মাটি উত্তোলন করায় বর্তমানে বাঁধ ধসে স্থানীয় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাস জমি থেকে মাটি কেটে ভাটায় ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি ওই ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাটা মালিক পারভেজ আকতারকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ২০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে মাটি ফেলে কর্তনকৃত স্থান ভরাটের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ভাটা কর্তৃপক্ষ মাটি ভরাট না করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি দপ্তরের সূত্র জানান, সান ব্রিকস নামক ইটভাটা কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর ধরে আতাই নদীর তীরবর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধের মাটি কেটে ইট তৈরি করছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ভাটা মালিককে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (খুলনা পওর শাখা-১) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম সাক্ষরিত ‘জরুরি নোটিশ’ দেওয়া হয়। নোটিশে মাটি কাটা বন্ধ করে তিন দিনের মধ্যে কাটা স্থান মাটি দিয়ে ভরাটের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষ ২৬ এপ্রিল স্থানীয় থানাকেও অনুরোধ জানান। এছাড়া এ বিষয়ে এলাকাবাসী ১৬ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গণসাক্ষরকৃত অভিযোগ জমা দেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ এপ্রিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষ্ণুপদ পালের নেতৃত্বে ওই ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অভিযোগের প্রমাণ মেলায় ভাটা মালিক পারভেজ আকতারকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে মাটি ফেলে কর্তনকৃত স্থান ভরাটের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, নির্ধারিত সময় পার হলেও ভাটা কর্তৃপক্ষ গর্ত করা স্থানে মাটি ভরাট না করায় নদীর প্রবল জোয়ারে বাঁধ ধসে স্থানীয় কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। যে কারণে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ২১ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পুনরায় গণসাক্ষরিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। মাটি ভরাট না করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০ দিন পার হলেও ভাটা কর্তৃপক্ষ মাটি ভরাট করেননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আত্মপক্ষ সমর্থন করে সান ব্রিকস ইটভাটার মালিক পারভেজ আকতার কর্তৃনকৃত স্থান ভরাটের উদ্যোগ নেননি স্বীকার করে বলেন, নদীর পলি পড়ে এমনিতেই ওই স্থান ভরাট হয়ে যাবে। তার ভরাটের প্রয়োজন হবে না।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top