বাংলাদেশ কি ভারতের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে উঠবে?

বাংলাদেশ কি ভারতের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে উঠবে?

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান প্রথম সেমিফাইনাল আজ বেলা সাড়ে ৩টায়

স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিকেট বা ফুটবলে কোনও বড় দল তুলনায় ছোট দলের কাছে বারবার হেরে গেলে কিংবা হোঁচট খেলে সেই দলটাকে বড় দলের গলার কাটা বলে চিহ্নিত করা হয়।
মাত্র বছর দুয়েকের ব্যবধানে তৃতীয়বার আইসিসি’র কোনও টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এজবাস্টনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে একটা আশঙ্কা কিন্তু উঁকি দেবেই ভারতীয় দলে। বাংলাদেশ আবার ভারতের গলার কাটা হয়ে দেখা দেবে না তো! ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ভারত এখন ৩ আর বাংলাদেশ ৬ নম্বরে। কিন্তু ক্রিকেটে সেই হিসেব উল্টাতে কতক্ষণ? এদিকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আজ অনুষ্ঠিত হবে প্রথম সেমিফাইনাল। বিকাল সাড়ে ৩টার এ ম্যাচে মুখোমুখী হবে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান।
১০ বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছিল ভারতের। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে হারতে-হারতে জিতে যায় ভারত। বেঙ্গালুরুতে অবিশ্বাস্যভাবে এক রানে না জিতলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হতো স্বাগতিকদের।
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি ক্রিকেট-বিশ্ব। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের বিশ্বাস, কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তই ভারতকে জয় এনে দিয়েছিল।
ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। তবে ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ মনে করেন, বাংলাদেশের বাধা পেরিয়ে ভারতই উঠবে ফাইনালে। ভারতের একটি পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিরোধ গড়বে বাংলাদেশ, কিন্তু আমার ধারণা ফাইনালে উঠবে ভারতই। এই মুহূর্তে বিরাট কোহলি অসাধারণ অধিনায়কত্ব করছে। পুরো দলটা দুর্র্ধষ ফিল্ডিংও করছে। তাই সেমিফাইনালে ভারত অবশ্যই অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ ভাল খেললেও এই দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল অফস্পিনার শরদিন্দু মুখার্জির। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ অবশ্যই ভারতের গাঁট হয়ে উঠতে পারে। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দারুণ প্রেসার ম্যাচ হবে, কোনও দল বাড়তি সুবিধা পাবে না। মনে রাখবেন, সেমিফাইনাল কিন্তু অনেক বড় ম্যাচ। এটা জেতা মানে ট্রফি থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে থাকা। এই তাগিদটাই এ ধরনের ম্যাচে দারুণ সব ব্যাপার ঘটিয়ে দেয়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ যে দারুণ খেলছে, তা তো সবাই দেখতেই পাচ্ছে। আমরা বলি, একটা ‘মোমেন্ট অব ব্রিলিয়ান্স’ মানে একটা ভালো ক্যাচ বা ভালো রান আউট কিংবা একটা দারুণ ডেলিভারিই এই ধরনের ম্যাচে পুরো রং বদলে দিতে পারে! কাজেই আমি অন্তত কোনও পূর্বাভাস দেওয়ার ঝুঁকি নেব না।”
ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদের কণ্ঠেও বাংলাদেশের প্রতি সমীহ, ‘প্রতিটা বিভাগে ভালো করছে বলে ভারতকে এগিয়ে রাখতেই হবে, ফেভারিট বলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের বড় শক্তি ব্যাটিং। এই টুর্নামেন্টেই ওদের তিনটা সেঞ্চুরি হয়েছে, অথচ ভারতের হয়েছে মাত্র একটা। বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। ওরা সব দলকেই কম-বেশি সমস্যায় ফেলেছে। আমি আবারও বলবো ভারতই ফেভারিট, কিন্তু বাংলাদেশকে হালকা করে দেখার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।’
ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের সাবেক উইকেটরক্ষক দীপ দাশগুপ্ত আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্সের ‘মেন্টর’ হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তামিম ইকবালকে। তার বক্তব্য, “কাগজে-কলমে, পারফরম্যান্সে বা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভারত নিশ্চয়ই এগিয়ে থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশ আর বিশ্ব ক্রিকেটের ‘মিনোজ’ নয়। দুটো দলের মধ্যে ক্ষমতা আর মানসিক শক্তির তফাত গত এক-দেড় বছরে অনেক কমে এসেছে, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। বাংলাদেশ নতুন কয়েকজন অসাধারণ খেলোয়াড় তুলে এনেছে। তামিম-মুশফিক-সাকিব-মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণদের নিয়ে দারুণ ব্যালান্সড দল তৈরি করে ফেলেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে আমি ফুল মার্কস দেব কোচ হাথুরুসিংহে আর দলের সাপোর্ট স্টাফদের, অসাধারণ কাজ করেছেন ওরা।”
সবশেষে টাইগারদের অনুপ্রাণিত হওয়ার মতো দারুণ এক মন্তব্য করেছেন দীপ দাশগুপ্ত, “একটা কথা বলতে পারি, আগে বাংলাদেশ বড় দলকে হারালেই সেটাকে বলা হতো ‘আপসেট’ বা অঘটন। এখন কিন্তু তারা প্রায়ই বড় দলের বিপক্ষে জিতছে। খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে গেছে বলে এটাকে আর আপসেট বলা যায় না। সেমিফাইনালের আগে কথাটা ভারতকে মাথায় রাখতেই হবে।”

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top