খুলনায় কাস্টমস কর্মচারীর বিরুদ্ধে  তথ্য গোপনের অভিযোগ

খুলনায় কাস্টমস কর্মচারীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

তিন মামলার আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে

স্টাফ রিপোর্টার : কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট খুলনার নিন্মমান সহকারী মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অপরদিকে, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও প্রতারণার তিনটি মামলার আসামি হয়ে জেল খেটেও বহাল তবিয়তে রয়েছে সে।
নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি এলাকার বাসিন্দা শেখ রেজাউল হক কর্তৃক দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী শেখ মঈনুল ইসলাম যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসান শেখের ছেলে। সে তার স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকায় স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে খুলনা জেলা কোটায় ২০১০ সালে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট খুলনায় নিন্মমান সহকারী কাম ক্লার্ক পদে যোগদান করেন। যা চরম দুর্নীতির সামিল।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সে এ চাকরিতে যোগদানের পর অবৈধভাবে অঢেল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে। তথ্য গোপনের বিষয়ে সে দাম্ভিকতার সঙ্গে বলে, ‘চাকরি গেলে আমার কিছু হবে না, প্রয়োজনে অন্য চাকরি করবো’। আবেদনে তার চাকরিতে যোগদান সম্পর্কিত তথ্য যাচাই-বাছাই এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অঢেল অর্থ-বিত্তের উৎস খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অপরদিকে, নিন্মমান সহকারী মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে খুলনার আদালতে নারী নির্যাতন, যৌতুক ও প্রতারণার তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় খুলনার নালিশী আদালত ‘খ’ অঞ্চলে গত ১৪ মার্চ তার স্ত্রী সাউদিয়া আক্তার দোলন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ১৮ আগস্ট মঈনুল ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ হয়। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যে সে নগদ ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। পরে বাড়ি করার কথা বলে আবারও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক না পেলে সে তাকে তালাক দিয়ে পুনরায় অন্য মেয়েকে বিবাহ করবে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্যাতন করে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়ে তাকে পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ওষুধ সেবন করিয়ে তার গর্ভের সন্তানও নষ্ট করে সে। সর্বশেষ গত ১০ মার্চ সন্ত্রাসীদের এনে আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করে। দু’ দিনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা যৌতুক না পেলে সে স্ত্রীকে তালাক দেবে বলে চলে যায়। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত ২৪ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন স্ত্রী সাউদিয়া আক্তার দোলন। ওই মামলায় আবুল হাসান, নাসিমা বেগম ও লুৎফুন নাহার লতা নামে আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। আগামী ৩০ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে। সর্বশেষ স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগে খুলনার নালিশী আমলী আদালত ‘খ’ অঞ্চলে গত ৩০ জুলাই আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার মূল বাদী তার স্ত্রী সাউদিয়া আক্তার দোলন এবং সহবাদী করা হয়েছে দুদক খুলনা আঞ্চলিক অফিসকে। এছাড়া এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখার জন্যও কাস্টমস কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঈনুল ইসলাম স্থায়ী ঠিকানা গোপন করে চাকরিতে যোগদানের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে নগরীর শিরোমণি এলাকায় তার পিতা আবুল হাসানের নামে একটি জমি ক্রয় করেন।
এ প্রতিবেদক সেলফোনে তার কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি বিষয়টি ‘ফালতু’ মন্তব্য করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top