খুলনা ওয়াসার ৬৪ কর্মচারীর নিয়োগ স্থায়ী হয়নি

খুলনা ওয়াসার ৬৪ কর্মচারীর নিয়োগ স্থায়ী হয়নি

প্রকল্পের জনবল স্থায়ী করতে তোড়জোড় : ইউনিয়নের না

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ-ওয়াসা সৃষ্টির পর থেকে কর্মরত থাকলেও এখন পর্যন্ত চাকরি স্থায়ী হয়নি ৬৪ কর্মচারীর। কেসিসি থেকে কর্মজীবন শুরু করে ওয়াসার এ পর্যন্ত কারও কারও চাকরির সময়সীমা একযুগেরও বেশি হয়েছে। স্থায়ী নিয়োগের বয়সও নেই অনেকের। ফলশ্রুতিতে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার ক্ষিণ আশা বুকে নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তারা।
এদিকে, উল্লিখিত ৬৪ কর্মচারীর সেই আশার ‘গুড়েও বালি’ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়োগ স্থায়ী না করেই অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের জনবলকেই রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে তোড়জোড় শুরু করেছেন খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে আজ রোববার ওয়াসা’র ৫১তম বোর্ড সভার ৪নং এজেন্ডায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে খুলনা ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগকে ইউনিয়নের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে বিষয়টি স্থগিত রাখতে বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনে সাড়া না দিলে বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউনিয়নের নেতারা। তবে প্রয়োজনের তাগিদেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওয়াসার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা ওয়াসায় অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ১৩৪ জন কর্মচারীর মধ্যে গত বছর ৭০ জনকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর বাকি ৬৪ জনকেও স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি ছিল কর্তৃপক্ষের। যদিও ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিষয়টি উচ্চ আদালত এবং দুদক পর্যন্তও গড়ায়।
সূত্র জানান, প্রতিশ্রুত ৬৪ জনকেও স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোন ধরনের উদ্যোগ না নিয়েই কর্তৃপক্ষ নগরীতে চলমান ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করার প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার ওয়াসা ভবনে ৫১তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বোর্ড সভার ৪নং এজেন্ডায় প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও নিয়মিতকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ, পিইঞ্জ।
কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষ সাধারণ শ্রমিকদের কথা বিবেচনা না করে একক সিদ্ধান্ত নিলে তারা কোনভাবেই মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে মামলাসহ আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। বিষয়টি তারা বোর্ডের সকল সদস্য ও এমডিকে অবহিত করেছেন।
ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) স্বপন কুমার ম-ল বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ সংক্রান্ত এজেন্ডা এমডিই চূড়ান্ত করেছেন। তার মাধ্যমে সব চিঠিপত্র ইস্যু হয়েছে। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
‘খুলনা পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের পরিচালক এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওয়াসার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ল্যাবরেটরী এবং বোতল ওয়াটারসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরতরা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। যে কারণে প্রয়োজনের তাগিদেই প্রকল্পে কর্মরত ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার আগেই কেন এ উদ্যোগ- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি চূড়ান্ত করতে প্রক্রিয়ায় বেশ সময়ের প্রয়োজন। তাই আগে থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের জন্য ২০১১ সালের মে মাসে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র প্রকল্প মেয়াদকালীন অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালকসহ মোট ১৮টি পদে জনবল আহবান করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রকল্প ব্যবস্থাপকের একটি পদেও ছয় বছরেও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক হিসেবে চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে লিয়েনে আসা প্রকৌশলী নূরুল আবছার নিয়োগ প্রাপ্তির কিছুদিন পরই ইস্তফা দিয়ে চলে যান। প্রকল্পের মূল এ পদটিও সেই থেকে শূন্য রয়েছে। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top