নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল

নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল

দেশি পেঁয়াজের দাম ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি

কামরুল হোসেন মনি
খুলনায় গত বছর এই সময় বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৮-৩০ টাকা। এখন তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২-৭৫ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ২৫৭ শতাংশ। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে চাল, আটা, মাছ, মাংসহ ৮ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তির দিকে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, গত কয়েকবছর ধরে কিছুতেই বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার দরের এই নিয়ন্ত্রণহীন ঊর্ধ্বগতিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
জেলা মার্কেটিং অফিসার আব্দুস সালাম তরফদার বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারতে কোন এক প্রদেশে বন্যার কারণে গতবারের তুলনায় এবার দেশে আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখি রয়েছে। এছাড়া চাহিদার তুলনায় দেশি পেঁয়াজে ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া এখনো আমন ধান পুরোপুরি না ওঠার কারণে চালের দাম একটু বেড়েছে। এই চালের মৌসুমে দাম কমার আশাবাদী তিনি।
জেলা মার্কেটিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ডিসেম্বর মাসে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি হতো ২৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ ছিল ২২ থেকে ২৪ টাকা। বর্তমানে কেজিতে ২৮-৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৪ টাকার পরিবর্তে এখন ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় গড়ে ২৫৭ শতাংশ দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে চাল, আটা, হলুদ, আদা, মাছ, গরু, খাসি ও লবণের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে চাল মোটা (স্থানীয়) ৩৫ থেকে ৩৭ টাকার পরিবর্তে ৪০ থেকে ৪২ টাকা, আমদানিকৃত ৪০ থেকে ৪২ টাকার পরিবর্তে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, চাল সরু ৪৬-৪৮ টাকার পরিবর্তে ৫৬-৬২ টাকা, আটা প্যাকেট ৩৪-৩৫ টাকার পরিবর্তে ৩৪-৩৬ টাকা, হলুদ ১৬০-১৮০ টাকার পরিবর্তে ১৬০-২০০ টাকা, গরুর মাংস ৩৯০-৪০০ টাকার পরিবর্তে ৪৫০-৪৭০ টাকা, খাসি ৫৫০-৬০০ টাকার পরিবর্তে ৭০০-৭২০ টাকায় বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে এই সময়ের মধ্যে ভোজ্য তেল, ডাল, আলু, শুকনা মরিচ, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, চিনি, রসুনের দাম কমেছে। এর মধ্যে ভোজ্য তেল লিটার প্রতি ৮৪-৮৫ টাকার পরিবর্তে ৮৩-৮৪ টাকা, আলু কেজিতে ২৬-২৮ টাকার পরিবর্তে ১৮-২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১২০-১২৫ টাকার পরিবর্তে ১১০-১১৫ টাকা, ডিম (ফার্ম) ৩১-৩২ টাকার পরিবর্তে ২৮-৩০ টাকা, চিনি কেজিতে ৬৪-৬৬ টাকার পরিবর্তে সাদা/লাল ৫৫-৬০ টাকায় বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে।
তবে সরকারি এই হিসেব অনুযায়ী বেসরকারি মতে বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ ও চালের দাম বেশি দেখা যায়। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ ১শ’-১১০ টাকা, পেঁয়াজ আমদানিকৃত ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোটা চাল ৪৪-৪৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। আর প্রকার ভেদে মিনিকেট ৬৬ টাকা থেকে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেসিসি বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনা বলেন, বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। কোন কারণ ছাড়াই যে কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।
বৃহস্পতিবার নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা ক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে পেঁয়াজের দাম যেভাবে বাড়তির দিকে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে তরকারিতে পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না শুরু করতে হবে। এছাড়া রয়েছে কাঁচামালের দামও। কাঁচা মরিচের দামেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। চাল নভেম্বর শেষের দিক একটু কমলেও এখন আবার বাড়তির দিকে রয়েছে। তিনি বলেন, সঠিক মনিটরিং না থাকার কারণে বাজারে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top