‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে’

‘খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে’

প্রবাহ রিপোর্ট : ‘যে আইনের অধীনে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আনা হয়েছে, ওই আইনের আওতায় এটা পড়ে না। আইনবহির্ভূত একটা মামলা দাঁড় করানো হয়েছে। এটা একটা রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তার কারণে ফৌজদারি আইনের আবরণে একটি রাজনৈতিক মামলা আনা হয়েছে। জনপ্রিয়তা আজ তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্কে এসব কথা বলেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে নবম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় আদালত আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের সংবিধানে ৩৫(৩) ধারায় আছে, একজন আসামির মৌলিক অধিকার হলো পাবলিক ট্রায়াল। কিন্তু এটা পাবলিক ট্রায়াল হচ্ছে না। ক্যামেরা ট্রায়ালে মামলা চলছে। এটা সংবিধানসম্মত হচ্ছে না। সুতরাং সংবিধান লংঘন করা হয়েছে। কারণ, এখানে কাউকে আসতে দেওয়া হয় না। এমনকি অনেক আইনজীবীকেও আসতে দেওয়া হয় না। এখানে কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। আইনজীবী বা পাবলিক আসার কোনো সুযোগ নেই, এসব বন্ধ। এটা ক্যামেরা ট্রায়াল। বলতে গেলে শেরেবাংলা নগরে মঈন উদ্দিন- ফখরুদ্দিনের সময়ে যে ধরনের ট্রায়াল হতো এ রকমই একটা ট্রায়াল হচ্ছে। এটাকে কোনোমতেই পাবলিক ট্রায়াল বলা যায় না। তিনি বলেন, এখানে খালেদা জিয়ার আরো ১৪টা মামলা স্থানান্তর করা হচ্ছে। এগুলো কোনো পাবলিক ট্রায়াল হবে না। সেখানে যারা অভিযুক্ত তারা নিজেদের ডিফেন্ড করার সুযোগ পাবে না। আদালতের যে আনুসাঙ্গিকতা বা পরিবেশ থাকে সেটা এখানে নেই। আইনজীবীদের ১০০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে আর্গুমেন্ট করতে হয়। যেটা প্রধান বিচারপতির কোর্টেও হয় না। সেখানে আমরা কত কাছে থেকে আর্গুমেন্ট করি। আর এখানে কত দূরে দাঁড়িয়ে আর্গুমেন্ট করতে হয়। আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ এখানে নেই। প্রবীণ এ আইনজীবী বলেন, এখানে আমরা একটি মাত্র কারণে এসেছি। একজন দেশবরেণ্য নেত্রীকে রাজনৈতিক কারণে আজ আপনার (বিচারক) সামনে এসে ন্যায়বিচারের জন্য দাঁড়াতে হচ্ছে। মামলাটা শুরুতেই খারিজ করে দেওয়া উচিত ছিল। যদি রাজনৈতিক প্রভাব বা রাজনৈতিক কারণ না থাকত তাহলে অবশ্যই প্রথমে এটা খারিজ করে দেওয়া হতো। কারণ, এখানে কোনো সাক্ষ্য নাই, স্বাক্ষী নাই। কোনো কাগজ নাই, যেখানে খালেদা জিয়া স্বাক্ষর করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে একেবারেই জড়িত ছিলেন না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। কিছু ভুয়া দলিল, কাগজপত্র সৃজন করে মামলাটা দাঁড় করানো হয়েছে। যার মূল নথি পাওয়া যায়নি। সে অজুহাতে তারা নিজেরা কিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে। কোনো মামলায় জাল-জালিয়াতি থাকলে সেই মামলা তখনই অবসান হয়ে যাবে। মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে এই মামলা। আর সেটা করতে হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিচিহ্ন করতে হবে। তারই অপচেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে দুই মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে আদালতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। এরপর ১১টা ৯ মিনিটে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলে অনুমতি নিয়ে তিনি নির্ধারিত আসন (একটি চেয়ার ও একটি টেবিল) গ্রহণ করেন। এরপর তার পক্ষে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। যুক্তিতর্কে তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দুর্নীতি দমন কমিশন প্রমাণ করতে পারেনি। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারলে এর সুবিধা পাবেন আসামি। তিনি আদালতের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন। জমির উদ্দিন সরকার আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসনের আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। বিশেষ করে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের এমন বক্তব্য আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ কি না, সে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন তিনি। তিনি তার বক্তব্যে বারবারই আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের কথা আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top