সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা সম্পর্কে ধারণা নিতে  ছুটির দিনে উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের আগমন

সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা সম্পর্কে ধারণা নিতে ছুটির দিনে উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের আগমন

স্টাফ রিপোর্টার
যে কোন মেলার প্রাণ ক্রেতা-দর্শনার্থী। কিন্তু উন্নয়ন মেলায় বিক্রির কোন পসরা না থাকলেও দর্শনার্থীদের সমাগমের কোন কমতি নেই। তারা আসছেন, সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা সম্পর্ক ধারণা নিতে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় পিতা-মাতার সাথে স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরগুলোতে সেবা সম্পর্ক জানছেন, কেউ বা স্টলে সেবাও নিচ্ছেন।
‘উন্নয়নের রোল মডেল, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে খুলনায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা-২০১৮। এই মেলার মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলে স্কুল বির্তক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান। মেলায় ১২০টি স্টলের মাধ্যমে খুলনার সকল সরকারি দপ্তর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এনজিওসমূহ তাদের উন্নয়নমূলক কর্মকা- প্রদর্শন করছেন।
ছুটির দিনে অফিস ও কাজের চাপ না থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন। নানা বয়সের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে উন্নয়ন মেলার মাঠ।
শুক্রবার গিয়ে দেখা গেছে, মেলাতে দর্শনার্থীরা সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন স্টলগুলোতে ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ বা সেবা সম্পর্কে নানান বিষয়ে প্রশ্ন করছেন, কেউ বা সেবাও নিচ্ছেন। আগত দর্শনার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এটা এই মেলায় একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, মেলায় আমাদের দপ্তরের সেবাসমূহ সম্পর্কে সাধারণ জনগণ ধারণা নিচ্ছেন। তাদেরকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। অভিভাবকের সাথে যেসব ছেলেমেয়েরা আসছেন তাদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা। পুরস্কার হিসেবে চকলেট-ওয়েফার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দর্শনার্থীরা মাদকবিরোধী গণসতেচনতামূলক লিফলেট, মাদকবিরোধী সতর্কতামূলক স্টিকার, মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা করা বিষয়ক লিফলেট নিচ্ছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে অভিযোগ বক্সও খোলা হয়েছে। এখান থেকে মাদকসক্ত ব্যক্তিকেও মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কেউ এসে পরামর্শও নিচ্ছেন।
নৌ-বাহিনীর স্টলে স্কুল শিক্ষার্থীরা নৌবাহিনীর জাহাজসহ নৌ-বাহিনীর ব্যবহৃত মেশিনারীজ, যুদ্ধ জাহাজের প্রতিকৃতি ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেউ বা কিভাবে এইগুলো ব্যবহার করা হয়, কত সালে নির্মিত ইত্যাদি বিষয় জানার কৌতুহলগুলো মেটাচ্ছেন।
মেলায় আগত অভিভাবক মোঃ মঈনুল ইসলামে সাথে কথা হয়, তিনিও তার দুই ছেলেকে নিয়ে এই মেলায় ঘুরতে আসেন। তিনি বলেন, সরকার এটি একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি কোন দপ্তরের কোন সেবা দেওয়া হচ্ছে তা আমরা অনেকেই জানিনা। এটা যেমন জানতে পারছি তেমনি সেবা বিষয়গুলো ধারণাও নিতে পারছি। কিন্তু এমনি সময়ে সরকারি দপ্তরে গেলে সেবার সম্পর্কে জানতে হোঁচট খেতে হয়।
মেলায় শুক্রবার সকালে স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। মেলার মাঝখানে সরকারি উন্নয়নমূলক গানও বাজছে। দর্শকরাও এসে গানগুলো উপভোগ করছেন। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের স্টলে আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থার নেওয়া হয়েছে। কেউ এসে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন। ছুটির দিনে অফিস ও কাজের চাপ না থকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন। আবার স্কুল, কোচিংয়ের বিড়ম্বনা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দল বেঁধে এসেছেন মেলায়। নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে উন্নয়ন মেলার মাঠে। মুজিব কিল্লায় উন্নয়নমূলক পটগান গাইছেন আগত শিল্পীরা। সন্ধ্যাবেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন রয়েছে। মেলা চলাকালীন সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলবে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে এই মেলার উদ্বোধন করেন। পরে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্থানীয়ভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অনুষ্ঠানে খুলনা জেলাপ্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান এর সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হান্নান এবং খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ।মেলায় আগত দর্শনার্থী মোঃ লালচাঁন হোসেন বলেন, মেলায় সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে নৌবাহিনী কর্তৃক নির্মিত জাহাজ। একই সাথে সকল দপ্তরের সেবা সম্পর্কে জানতে পেরেও তিনি খুশি।
মেলায় শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অন্যান্যরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
এদিকে জেলা খাদ্য বিভাগের স্টলে খাদ্য বিভাগের সৃষ্টির প্রেক্ষাপট বর্ণনা, খাদ্য অধিদপ্তরের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রচার করা হচ্ছে। একইসাথে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিশেষভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য বিভাগের খাদ্যশস্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top