খুলনায় বই পড়ায় ৩৮০৪ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কর্তৃক খুলনা মহানগরের আওতায় পরিচালিত স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কার্যক্রমের দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে শহরের পিটিআই প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন কর্তৃক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি দুইটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, বিশিষ্ট লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম, খুলনা পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম, গ্রামীণফোনের খুলনা অঞ্চলের হেড অব মার্কেটিং পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক ও উপ-সচিব শরিফ মোঃ মাসুদ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর টিএম জাকির হোসেন। এছাড়া প্রথম পর্বের অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে খুলনা মহানগরীতে দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসবে দুইটি পর্বে ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৩ হাজার ৮০৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে পুরস্কার বিতরণী উৎসবের প্রথম পর্বে ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯৪২ জন ছাত্রছাত্রী পুরস্কার গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় পর্বে পুরস্কার গ্রহণ করেছে ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮৬২ জন ছাত্রছাত্রী। বিশিষ্ট লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ প্রথমেই পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদেরকে অভিনন্দন জানান। তিনি ছাত্রছাত্রীদেরকে গল্প বলে আরো বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়ার কর্মসূচি সারা পৃথিবীতে একটি অনন্য কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরো বলেন, জীবন পাল্টে দিতে পারে এমন ৩টি জিনিস হল বই, বই আর বই। এপিজে আবুল কালাম, বিল গেট্স ও ওয়ারেন বাফেটসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে বলেন, এরা সারা জীবন অসংখ্য বই পড়েছেন বলেই বিখ্যাত হতে পেরেছেন। খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার বলেন, নেশা মানুষকে ধ্বংস করে কিন্তু একমাত্র বই পড়ার নেশাই মানুষকে সমৃদ্ধ করে। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারি।
খুলনা পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের খুলনা মহানগরীর পুরস্কার বিতরণী উৎসবের জন্য পিটিআই প্রাঙ্গনকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে। তিনি ছাত্রছাত্রীদেরকে বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দেন।
গ্রামীণফোনের খুলনা অঞ্চলের হেড অব মার্কেটিং পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কার্যক্রমের সাথে গ্রামীণফোন যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গ্রামীণফোন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চায়। বই আমাদের চিন্তা শক্তিকে বৃদ্ধি করে। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগেও এর অবদান কোনো অংশে কম নয়। তাই আমাদের সকলের জন্য দারুন দারুন সব বইয়ের একটি ই-লাইব্রেরি তৈরি করেছি আমরা এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। আগ্রহী পাঠকগণ যঃঃঢ়://িি.িধষড়ৎঢ়ধঃযংযধষধ.ড়ৎম ঠিকানায় তাদের পছন্দের বই পড়তে পারবেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল ছাত্রছাত্রীসহ উপস্থিত সকলকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক ও উপ-সচিব শরিফ মোঃ মাসুদ প্রথমেই পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানান। তিনি ছাত্রছাত্রীদের বেশি বেশি বই পড়ার পরামর্শ দেন এবং বছরজুড়ে এই বইপড়া কর্মসূচিকে সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। আগামী বছরগুলোতে আরো বেশি বেশি ছাত্রছাত্রীদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন। পুরস্কার বিতরণী শেষে সন্ধ্যায় উপস্থিত সকলে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে…” গানের সুরে সুরে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারের বইসহ উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top