কেসিসির সেবামূলক কাজে বাধা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন

দিনব্যাপী কর্মবিরতিসহ চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) সেবামূলক কাজে বাধা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়েরের প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মচারীরা সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে দিনব্যাপী কর্মবিরতিসহ চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ১৮ মার্চ রোববার সকাল ১১টায় পুলিশ কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি পেশ, ২০ মার্চ সকাল ১১টায় নগরভবন চত্বরে শ্রমিক কর্মচারী সমাবেশ, ২২ মার্চ দিনব্যাপী কঞ্জারভেন্সী বিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং সর্বশেষ ১ এপ্রিল নগর ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে কেসিসির শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার সাহা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ নগরবাসীকে সেবা প্রদান করে থাকে। কিন্তু তারা নগরবাসীকে নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হচ্ছে। স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে তাদের সেবামূলক কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে করে সেবামূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নগরবাসী ধারাবাহিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, জার্মান ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল চলতি মাসে খুলনা শহরে তাদের অর্থায়নে সম্পন্নকৃত প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করছেন। এ জন্য বাস টার্মিনাল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, নদীর পাড়ের ঘাটসমূহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, সকল রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ফুটপাত ও সড়কের ওপর থেকে ইট-বালু, বাঁশ অপসারণ করার জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দেন। সে লক্ষ্যে নগরীতে ফুটপাত দখল মুক্ত করতে মাইকিং করা হয়। পরে কেসিসির সম্পত্তি শাখা ও কঞ্জারভেন্সী বিভাগ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ মার্চ নগরীর বিভিন্ন সড়কে ও ফুটপাতে রাখা ইট বালু অপসারণ কাজ শুরু করা হয়। ওই দিন সকাল ১১টার দিকে রায়েরমহল মেইন রোডে (মন্দিরের মোড়) কঞ্জারভেন্সী সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম ও সহকারী কঞ্জারভেন্সী অফিসার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন টিম রাস্তার ওপর রাখা অবৈধ ইট, বালু, খোয়া ও বাঁশ অপসারণ কাজ শুরু করেন। সোনার বাংলা প্রোপার্টিস ও মামুন টেডার্স এর সত্ত্বাধিকারী এ এম আল-মামুন চৌধুরীর অবৈধভাবে রাখা ইট, বালি, খোয়া অপসারণ করতে বলা হয়। এ সময় মামুন পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হন। টিমটি বাধার মুখে পড়ে ওই ইট বালু অপসারণ না করেই এলাকা ত্যাগ করে। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে মামুনকে শান্ত থেকে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দেন। কিন্তু কেসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভদ্রতাকে পুঁজি করে পরিচ্ছন্নতা কাজ ব্যাহত করার হীন মানসিকতা চরিতার্থ করার উদেশ্যে দখলদার মামুন ৯ মার্চ হরিণটানা থানায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কেসিসির কঞ্জারভেন্সী সুপারভাইজার মোঃ মনিরুল ইসলামসহ ৫ জনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এই দখলদার মামুন কেসিসির রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসা করে চলেছেন। তিনি একটি ট্রেড লাইসেন্স করে তিনটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনটি ভবনের মালিক হয়েও নামমাত্র গৃহকর দিচ্ছেন। একদিকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অপরাধ করছেন অন্যদিকে কেসিসির কোন অনুমোদন ছাড়াই সড়কের ওপর ইট বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। নিজে আইন ভেঙে অপরাধ করে উল্টো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ওপর মারমুখি আচরণ, এমন কি সর্বশেষ মামলা দায়েরের বিষয়টি কেসিসির শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে। এতে করে নাগরিক সেবায় প্রভাব পড়ছে। স্বল্প জনবল নিয়ে খুলনা নগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেবা প্রদান করতে গিয়ে তারা বারংবার লাঞ্ছিত হচ্ছে, একটি স্বাধীন দেশে এটা কখনই কাম্য নয়।
হীন মানসিকতা চরিতার্থ করার উদেশ্যে দখলদার মামুন কর্তৃক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে, তারা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির সহকারী কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ আব্দুর রকীব, নুরুন্নাহার এ্যানী, মোঃ জিয়াউর রহমান, মোল্লা মারুফ রশীদ, কনঃ সুপার ইন্সপেক্টর এস এম শহীদুল ইসলাম, তানবিনুল ইসলাম বাবু, কেসিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ওহিদুজ্জামান শেখ, সহ-সভাপতি খান হাবিবুর রহমান ও মোকাররম হোসেন, এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন রাজা, যুগ্ম সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিটু ও আহসান হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মোঃ বশির, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পিন্টু রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী এনামুল হক টুকু, নির্বাহী সদস্য বাহাদুর হোসেন, জাকির হোসেন, আকবর হোসেন, রফিকুল ইসলাম রাজু, কঞ্জারভেন্সী সুপারভাইজার ঐক্য পরিষদের সভাপতি জাকির হোসেন, কঞ্জারভেন্সী বিভাগের ৩১টি ওয়ার্ডের সুপারভাইজারসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top