৬নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন আজ : আ’লীগ-বিএনপির লড়াই

৬নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন আজ : আ’লীগ-বিএনপির লড়াই

রুহুল আমিন, দৌলতপুর প্রতিনিধি : আজ বৃহস্পতিবার নগরীর দৌলতপুরে ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চারজন প্রার্থী কাগজে কলমে থাকলেও মূল প্রার্থী তিনজন। এর মধ্যে আ’লীগ’র মিজানুর রহমান মিজা তরফদার, বিএনপির শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্স ও তার চাচা শেখ লুৎফর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তরিকুল ইসলাম কাবির। তবে গতকাল শেখ লুৎফর রহমান এক বিবৃতিতে তার ভাইপো শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্সকে সমর্থন দিয়েছেন বলে জানান। যদিও তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন থেকে কাগজে কলমে প্রার্থী থাকলেও ভাইপো প্রিন্সের নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করে চলেছেন। এতে করে ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে আ’লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী রইল। তবে নির্বাচনে লড়াই হবে আ’লীগের প্রার্থী মিজা-বিএনপির প্রার্থী প্রিন্সের মধ্যে বলে সাধারণ ভোটাররা জানান। দ্বিমুখি লড়াইয়ে যে যার প্রার্থী জয়ী করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। গতকাল বিকেলেই ভোট কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পৌঁছে গেছে। তখন থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্র পাহারায় রেখেছে। পুরো ওয়ার্ডজুড়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যসহ সাদা পোশাকে পুলিশ বাহিনী টহল জোরদার করেছে।
এদিকে জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ ইউনুচ আলী জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। ৬নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১৪১৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৬৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৭ হাজার ৭৯ জন। এ ওয়ার্ডে নয়টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো- বিএল কলেজে ২টি, আফিল উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়-১টি, আফিল উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২টি, পাবলা সবুজ সংঘ বিদ্যাপীঠ-১টি, শেরে বাংলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে-২টি ও পাবলা দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়-১টি। তবে আফিল উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে-২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে-১টি, বিএল কলেজে-২টি, পাবলা দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে-১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হলেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা চিহ্নিত করেছেন। ৯টি কেন্দ্রে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪২টি। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবে ১৪৮ জন পুলিশ। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ থাকবে ১৫ থেকে ১৮ জন। আর আনসার সদস্য থাকবে ১৪ জন করে। পুলিশের পাঁচটি মোবাইল টিম টহলে থাকবে। প্রতি টিমে ৩২ জন। স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে চারটি টিম। প্রতি টিমে থাকবে ৬০ জন। র‌্যাবের ২টি মোবাইল টিম থাকবে বলে দৌলতপুর থানা নির্বাচন অফিসার মাহফুজুর রহমান জানান। নির্বাচনের দিন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আরাফাতুল আলমের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। গতকাল বিকেলে এ টিমটি ভোট কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন বলে তিনি জানান।
৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ কওসার আলী জানান, বিগত কাউন্সিলর নির্বাচনে ওয়ার্ডটি আ’লীগের ঘাঁটি থাকলেও অভ্যন্তীরণ কোন্দলে প্রার্থীর ভরাডুবি হয়। যা দলের জন্য খুবই দুঃখজনক বিষয় ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে আর এ অবস্থা নেই। দলের পক্ষ থেকে মিজানুর রহমান মিজা তরফদারকে একক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটা দলের জন্য ভাল লক্ষণ। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবার দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য শপথ নিয়েছে। সব মিলিয়ে এবার দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের পাল্লা ভারি বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপির প্রার্থী শেখ সামসুদ্দিন আহম্মেদ প্রিন্সের চাচা শেখ লুৎফর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাদের কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন গতকাল। মনিরুল ইসলাম তরফদার বলেন, বিএনপির প্রার্থী প্রিন্সের ভাই এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এতে করে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাউন্সিলর শেখ শওকত আলী জয়ী হন। গত ১৪ ডিসেম্বর’১৭ তিনি মারা যাওয়ার পর ওই ওয়ার্ডটি শূন্য হয়ে পড়ে। অবশেষে নির্বাচন কমিশন ওই ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top