প্রতীক নিয়েই পাঁচ মেয়র প্রার্থীসহ  ১৯০ প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠের লড়াইয়ে

প্রতীক নিয়েই পাঁচ মেয়র প্রার্থীসহ ১৯০ প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠের লড়াইয়ে

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে পাঁচ মেয়র এবং ১৮৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার উল্লিখিত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীকগুলো তুলে দেন।
এদিকে, প্রতীক নিয়েই নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। তারা ভোটারদের কাছে গিয়ে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণের মধ্যদিয়ে নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা নগরী।
প্রথমে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সী মো. মাহবুব আলম সোহাগ, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ শাহজালাল সুজন প্রমুখ।
পরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ধানের শিষ প্রতীক দেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু প্রমুখ।
এর পর জাতীয় পার্টির (জাপা) এস এম শফিকুর রহমানকে (এস এম মুশফিকুর রহমান) লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হককে হাতপাখা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও বাসদসহ পাঁচ দলের প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুকে কাস্তে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক দেওয়ার পর সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে তাদের পছন্দের প্রতীক দেওয়া হয়।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর পরই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন।
এর আগে সকালে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর টুটপাড়া কবরখানায় তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। প্রতীক নেওয়ার পর নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিনি ক্লিন এবং গ্রীন সিটি হিসেবে খুলনা নগরীকে গড়ে তুলতে চান। ১৫ মে ভোট দিয়ে তাকে সিটি মেয়র নির্বাচিত করতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি। সকাল সোয়া ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসেন তালুকদার আব্দুল খালেক। সেখানে তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতীকৃতিতে মাল্যদান করেন। তারপর তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচারণার কাজ শুরু করেন। এসময় তিনি বলেন, মেয়র থাকাকালীন আমার সর্বস্ব দিয়ে খুলনার উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার মানুষকে প্রচ- ভালবাসেন। সেকারণেই তিনি খুলনার মানুষের কথা চিন্তা করে আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমাকে মেয়র নির্বাচিত করে খুলনার উন্নয়নসহ সকল ধরনের নাগরিক সেবা করার সুযোগ দিন।
একইভাবে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা), সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মেয়র প্রার্থীসহ পাঁচজন মেয়র পদে এবং সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডে ১৪৭ জন কাউন্সিলর ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩৮ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top