বার্সেলোনার প্রথম হার ৯ গোলের রোমাঞ্চে

বার্সেলোনার প্রথম হার ৯ গোলের রোমাঞ্চে

স্পোর্টস ডেস্ক : বার্সেলোনা-লেভান্তের ম্যাচ মানেই যেন গোল উৎসব। সেই গোল উৎসব হলো এবারও। এত দিন নিজেদের জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনা লেভান্তে গোলে ভাসাল বার্সেলোনাকে। ৫-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল এরনেস্তো ভালভেরদের শিষ্যরা। কিন্তু চলতি মৌসুমে লা লিগায় প্রথম হার এড়াতে পারল না চ্যাম্পিয়নরা।
লেভান্তের বিপক্ষে আগের ৯ ম্যাচে ৩৬ গোল করা বার্সেলোনা এবার হারল ৫-৪ গোলে। গত আসরের সাত আর এবারের লিগে ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারল তারা।
লেভান্তের হয়ে হ্যাটট্রিক করেন এমানুয়েল বোয়াটেং। জোড়া গোল আসে এনিস বার্দির পা থেকে। বার্সেলোনার হয়ে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। অতিথিদের অন্য গোলটি লুইস সুয়ারেসের।
এমন দলের কাছে হেরে অজেয় যাত্রা থামল বার্সেলোনার যাদের বিপক্ষে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে কখনও হারেনি তারা। হলো না ৩৮ ম্যাচের লা লিগায় প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত থেকে লিগ শেষ করা।
নিজেদের মাঠে রোববার রাতে নবম মিনিটে এগিয়ে যায় লেভান্তে। বোয়াটেংয়ের গোলে দারুণ অবদান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার লুইস মোরালেসের। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে বাই লাইন থেকে চমৎকার এক ক্রসে খুঁজে পান বোয়াটেংকে।
ঝাঁপিয়ে ক্রস রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। কিন্তু একটুর জন্য নাগাল পাননি। খুব কাছ থেকে বল ঠিকানায় পৌঁছে দিতে কোনো সমস্যা হয়নি ঘানার ফরোয়ার্ড বোয়াটেংয়ের।
দুই মিনিট পরেই ব্যবধান হতে পারতো ২-০। বোয়াটেং বিপজ্জনক জায়গায় খুঁজে পান বার্দিকে। কিন্তু মেসেডোনিয়ার মিডফিল্ডার খুব কাছ থেকে ক্রসবারে মেরে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বোয়াটেং। সাসা লুকিচের ডিফেন্স চেরা পাস ফেরাতে পারেনি অতিথিরা। ছুটে এসে চেষ্টা করেছিলেন টের স্টেগেন। তাকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যান বোয়াটেং। পিছন থেকে এসে চেষ্টা করেছিলেন নেলসন সেমেদো। কিন্তু সফল হননি। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে স্তব্ধ করে দেন বোয়াটেং।
৩৮তম মিনিটে প্রথম সত্যিকারের সুযোগকে গোলে পরিণত করেন কৌতিনিয়ো। তার এই গোলে দারুণ অবদান খানিক আগে টমাস ভারমালেনের বদলি নামা জেরার্দ পিকের। তার কাছ থেকে পাস পেয়েই ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কৌতিনিয়ো।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বার্সেলোনার জালে আবার বল পাঠায় লেভান্তে। হোসে কামপানার কাট ব্যাকে বল পেয়ে যান অরক্ষিত বার্দি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।
৪৯তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বোয়াটেং। আন্তোনিও লুনার কাছ থেকে বল পেয়ে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় লেভান্তে।
স্বাগতিকদের আক্রমণ মানেই যেন গোল! বার্সেলোনার রক্ষণ বলতে যেন কিছু নেই। ৫৬তম মিনিটে বল নিয়ে এগিয়ে গেল লেভান্তে, ব্যবধান বাড়ল আরেকটু। রজারের ডিফেন্স চেরা পাসে ছুটে গিয়ে বুলেট গতির শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলেন বার্দি।
৫৮তম মিনিট পর্যন্ত ৫-১ গোলে পিছিয়ে ছিল বার্সেলোনা। এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া দলের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির অভাব তখন দারুণভাবে অনুভব করছিল অতিথিরা। সেখান থেকে দলকে ম্যাচে ফেরান কৌতিনিয়ো। খুব কাছ থেকে জোরালো শটে ৫৯তম মিনিটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড।
পাঁচ মিনিট পর আবার কৌতিনিয়োর বুলেট গতির শট। এবার ডি-বক্সের বাইরে থেকে। কিন্তু ফল সেই একই। আবার বল লেভান্তের জালে। দারুণ এক হ্যাটট্রিকে ব্যবধান ৫-৩ এ নামিয়ে আনলেন কৌতিনিয়ো।
৭১তম মিনিটে সফল স্পট কিক থেকে ব্যবধান আরও কমান সুয়ারেস। সের্হিও বুসকেতসকে ডি-বক্সে ফাউল করা পেনাল্টি পেয়েছিল বার্সেলোনা। ৭৪তম মিনিটে সুয়ারেসের হেড একটুর জন্য লক্ষ্যে না থাকায় সমতা ফেরেনি ম্যাচে।
৮২তম মিনিটে কৌতিনিয়োর নিচু ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন লুনা। অল্পের জন্য হয়নি আত্মঘাতী গোল। দুই মিনিট পর শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কৌতিনিয়ো।
৯০তম মিনিটে বুসকেতসের বাজে পাসে গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়ে যান রুচিনা। কিন্তু খুব কাছ থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। বাকি সময়ে আর প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি বার্সেলোনা।
টানা ২১ অ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর হারল বার্সেলোনা। অল্পের জন্য ছোঁয়া হলো না পেপ গুয়ার্দিওলার সময়ে টানা ২৩ অ্যাওয়ে ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।
আগেই শিরোপা নিশ্চিত করা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৩৭ ম্যাচে ৯০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের ৭৮। ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৫ নম্বরে আছে লেভান্তে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top