অপ্রত্যাশিত পরাজয়ে বিএনপি শিবিরে ক্ষোভ

১৫০ কেন্দ্র দখলের অভিযোগ

এম সাইফুল ইসলাম : কেসিসি নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ে খুলনা বিএনপি ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচনের শেষের মুহূর্তে পরাজয়ের পূর্ব আভাস পেয়ে ধীরে ধীরে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে কেডি ঘোষ রোডস্থ মহানগর কার্যালয়ে। তারা তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তাদের রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাথে ব্যক্ত করে। এই সময় অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মীই তাদের পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের ভোট কারচুপিকে দায়ি করেন। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ১৫০টি কেন্দ্র দখল করে ভোট কাটাকাটি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্মাণের পরে আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আঃ খালেকের ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরকে বাদ দিলে বাকি পুরো সময়টা নগর পিতার দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। ২০০৮ সালে যখন বিএনপির ভরাডুবি তখনও খুলনা থেকে বিএনপি বিজয় লাভ করে। বিএনপির এই উর্বর মাঠে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ে বিএনপি মানসিক বিপর্যয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গেলে মেয়র প্রার্থী ও বিএনপির মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান মনিকে বিভিন্ন মিডিয়া ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্য ১৫০টি কেন্দ্রই দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হত তাহলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতো বিএনপি।
এদিকে, পরাজয়ে শুধু বিএনপির সিনিয়র নেতা-কর্মীরাই ক্ষুব্ধ হননি, সাধারণ সমর্থকরাও বিএনপি অফিসে এসে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমার কেন্দ্রে আজ পর্যন্ত কোনদিন ধানের শিষ হারেনি। কিন্তু আজকের নির্বাচনে হারলো। যা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়।
ছাত্রদলের মহানগর সভাপতি শরীফুল ইসলাম বাবু বলেন, ভোটে পরাজয়ের জন্য কাকে দায়ি করবো? আমি নিজেইতো আমার ভোট দিতে পারিনি। গিয়ে দেখি আমার ভোট আর কে একজন দিয়ে চলে গেছে। তিনি আরও বলেন, সিটি নির্বাচনটা ছিল পরীক্ষামূলক। আসলে এই সরকারের আমলে কতটা সুষ্ঠু হয় নির্বাচন তা জাতি দেখলো আরেকবার? এই নির্বাচনই প্রমাণ করে এই সরকারের আমলে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। এই নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যাবে কিনা? এমন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইজিবাইক শ্রমিকদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেন, জীবনে অনেক ভোট দিয়েছি। কিন্তু কখনো এমন কারচুপি দেখিনি। এই নির্বাচনই প্রমাণ করে এই সরকারের আমলে কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপির মহানগর সহ-দফতর সম্পাদক সামসুজ্জামান চঞ্চল তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেছেন, আজ বুধবার প্রেস কনফারেন্সে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top