কেসিসির নির্বাচন সম্পন্ন

কেসিসির নির্বাচন সম্পন্ন

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : মঙ্গলবার কেসিসির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ ব্যালটে সীল মারতে অংশ নেয়। রূপসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবলীগের কর্মীরা ব্যালট পেপারের মুড়ি বই গায়েব করে দেয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শাসক দলের কর্মীরা ব্যালট পেপার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জাল ভোট এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করায় ৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে গেলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের একজন পর্যবেক্ষককে লাঞ্ছিত করেন।
সকাল থেকে কেন্দ্রের পাশে বিএনপি কর্মীদের অবস্থান নিতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের পাশে ধানের শিষ প্রতীকের কোন ক্যাম্প ছিল না। তাদের পক্ষ থেকে ভোটার স্লিপ দিতে দেখা যায়নি। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, ২১নং ওয়ার্ডের প্রভাতী স্কুল, পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সেন্ট জোসেফস স্কুল, খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসা, বয়রা ইউসেফ স্কুল, সবুরণনেসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র, প্রভাতী রেলওয়ে সরকারি বিদ্যালয়, খুলনা জিলা স্কুল (নতুন ভবন) কেন্দ্রে দুপুর ১২টার আগেই ভোট শেষ হয়ে যায়। এইচ আর এইচ প্রিন্স আগাখান মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালটে সীল মারতে পুলিশ অংশ নেয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানিয়েছেন, জালভোট দেওয়ার ঘটনায় ২৪নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় এবং ২২নং ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩০নং ওয়ার্ডে রূপসা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুটি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ এক ঘন্টারও বেশি সময় স্থগিত রাখা হয়। এ কেন্দ্রের ২নং বুথে ভোট দিতে গিয়ে ফিরে যান মাদরাসা শিক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, তিনি দু’ দফা চেষ্টা করেও নিজের ভোটটি দিতে পারেননি। তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। তার ভোটার নং ৫১৫। অপরদিকে, নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের সেন্ট জেভিয়ার্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গেলেও পারেননি বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শওকত হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। পরে তিনি কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার জোর করে তার আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেন। এতে তিনি আরও উত্তেজিত হলে ‘ভুল হয়েছে’ মর্মে তার কাছে ক্ষমা চান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, অন্তত ১০টি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ধানের শিষ প্রতীকের এজেন্টদের অধিকাংশ কেন্দ্রেই পাওয়া যায়নি। ভোট গ্রহণের আগে এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।
সকাল ১১টার দিকে সোনাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির নির্বচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাকিরের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন এসে কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে চেয়ার ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। ৩০নং ওয়ার্ডের রূপসা স্কুল কেন্দ্রে ধানের শিষের এজেন্ট সেলিম কাজীকে মারধর করা হয়। এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শিষের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ৩১নং ওয়ার্ডের হাজী আব্দুল মালেক ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সামনের নির্বাচনী ক্যাম্পও ভাংচুর করা হয়।
২৪নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শমসের আলী মিন্টু বলেন, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে বিএনপির ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে, বিজিবিও দেখা গেছে, তারা কিছু করেনি। এ বিষয়ে খুলনার সহকারী পুলিশ কমিশনার আল বেরুনী বলেন, “নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙা আচরণবিধি লঙ্ঘন, ঠিক হয়নি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
নগরীর মুসলমানপাড়া দারুল উলুম মাদরাসার সামনে, আবদুল গণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে এবং নিরালা আবাসিক এলাকায় আরও কয়েকটি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি প্রার্থীর ক্যাম্পে ক্ষমতাসীনরা ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে মহানগরীর জিলা স্কুল কেন্দ্রে আলী আকবরকে মারধর করে আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর সমর্থকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার বলেন, আমার এজেন্ট আলী আকবর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে জিলা স্কুল কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকুর লোকজন তাকে মারধোর করে। কেন্দ্রে ঢুকতে দেয় না। তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি তার ওয়ার্ডের সকল কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর তাৎক্ষণিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
খুলনা সিটি নির্বাচনে ইসির পর্যবেক্ষক দলের প্রধান সমন্বয়কারী ইসির যুগ্মসচিব আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আমি অন্তত ২০টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সেখানে কেউ অভিযোগ স্বীকার করছে না। কিন্তু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার তথ্য গণমাধ্যম ও নানা সোর্সে পাচ্ছি। যেখানেই অভিযোগ পাচ্ছি, ছুটে যাচ্ছি। তবে, ‘কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে মন্তব্য করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, ‘৫/৬টি কেন্দ্রের অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছি’।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top