সংসদে ব্যাংক খাত নিয়ে ফের সমালোচনার মুখে অর্থমন্ত্রী

সংসদে ব্যাংক খাত নিয়ে ফের সমালোচনার মুখে অর্থমন্ত্রী

প্রবাহ রিপোর্ট : দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ‘বিশৃঙ্খলা’ নিয়ে সংসদে অব্যাহত সমালোচনার মুখে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার শুরুর দিন অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।
জাসদের নাজমুল হক প্রধান বলেন, ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, ব্যাংককে টাকা দিয়েছেন। একবার করের ছাড়, একবার ভর্তুকি দিচ্ছেন। একটা সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবার এরকম করে ব্যাংক রক্ষা যাবে কিন্তু অর্থনীতি রক্ষা হবে না। ব্যাংক থাকবে অর্থনীতি কলুষিত হবে। এক মন দুধে এক ফোঁটা টকই যথেষ্ট। এসময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশীয় পয়েন্টের জায়গায় এক শতাংশ কমানোর দাবি করেন। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমান বলেন, আমরা ছোটবেলায় ডাব খেতাম, রস খেতাম। তখন বলতো চুরি করেছি। আর এখন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, লুট বলা যাবে না। ব্যাংক কাদের টাকা দিচ্ছে? রাষ্ট্র ব্যাংককে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। কেন জবাবদিহি করা হচ্ছে না? জনগণের টাকায় কেন ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে? লুট করেন, লুট করার সুযোগ দিচ্ছেন। শাস্তি না দিয়ে টাকা দিয়েছেন। আবারও একই অবস্থা হবে। প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যাংক খাতে রক্তক্ষরণের বাজেট আখ্যা দিয়ে বিরোধী দলের শামীম হায়দার পাটোয়ারী এর পেছনে তিনটি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন, সুদের হার ১০ ভাগের নীচে নামেনি ও ব্যাংক কমিশন গঠন হয়নি। ব্যাংক খাতে কর্পোরটে কর আড়াই ভাগ কমানো হয়েছে কিন্তু অন্য কর্পোরেট খাতে ৪০ শতাংশ রেখে দিয়েছেন। যে খাত ভালো করছে সেখানে কর কমালেন না। যে খাতে লুটপাট হচ্ছে কমালেন সেখানে। আমার এক সহকর্মী মাহমুদ গজনীর সোমনাথ মন্দির লুটের কথা বলেছেন। আমি বলছি, নাদির শাহের দিল্লী লুটের সময়ওএত টাকা লুট হয়নি। বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, এনামুল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ইসরাফিল আলম, কাজী রোজী। রোববার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায়ও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর ছিলেন সরকারের শরিক ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top