তালায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম

তালা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত পদে ৮ জন প্রার্থীর আবেদন জমা পড়লেও সাজানো পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন মাত্র ৩ জন। পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থী নিহার রঞ্জনকে উত্তীর্ণ করতে বাকী ২ জনকে হাজির করা হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় ব্যক্তি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাথে যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থী নিহার রঞ্জন’র নিকট থেকে ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ৮ লাখ টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকা নগদ ও বাকী ৫ লাখ টাকার চেক নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য ওই সূত্রটি জানিয়েছে।
জানা যায়, তালার মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি শূন্য হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। উক্ত পদে নিয়োগ পাবার জন্য কপিলমুনি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিহার রঞ্জন, তালা মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিদারুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অসিত কুমার সিংহ, এজেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফজলুর রহমান, জেএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বপন কুমার দেবনাথ, তালা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আ. হান্নান এবং কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস কুমার আবেদন করেন। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই মেধাহীন এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেবার জন্য নির্বাচিত করেন।
জানা যায়, গত ৬ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হলেও সব প্রার্থীকে সময়মত জানানো হয়নি। ৫ জনকে ইচ্ছে করেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। নিজের বিদ্যালয়ের ১ শিক্ষককে ভয় দেখিয়ে পরীক্ষায় খারাপ করতে বলা হয় বলেও অভিযোগ আছে। এছাড়া আরেক প্রার্থী পরীক্ষা দিলেও সে পূর্ব নির্ধারিত নিহার রঞ্জনকে উত্তীর্ণ করতে সহযোগিতা করে। যে কারণে মাত্র ৩ জন প্রার্থীকে নিয়ে সাজানো পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের দোতলার ছাদ করার সমুদয় টাকা নিয়োগকৃত শিক্ষক বহন করবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর যা কিছু করা হচ্ছে বা হয়েছে তা ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তেই হয়েছে।
তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যে ৩ জন পরীক্ষা দিয়েছে সঠিকভাবে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top