কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম আগ্রাসন চালাচ্ছে সরকার: রিজভী

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম আগ্রাসন চালাচ্ছে সরকার: রিজভী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যে ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু করেছে, তাকে ‘সরকারের নির্মম আগ্রসন’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ছাত্রলীগের পা-াদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেওয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাক ডাউন। গতকাল (গত বুধবার) বসুন্ধরাসহ রাজধানীতে সরকারি বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য চিরুনি অভিযান চালিয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গত সোমবার বসুন্ধরা এলাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভে নামলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এর দুদিন পর গত বুধবার রাতে বসুন্ধরা ও কালাচাঁদপুর এলাকা ঘেরাও করে তিন ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রিজভী বলেন, এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন। আমরা অবিলম্বে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপর এই নির্মম হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় বাড্ডা ও ভাটারা থানার দুই মামলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৭৫ জনকে আটক করে পুলিশ, পরে তাদের মধ্যে ২২ জনকে পাঠানো হয় রিমান্ডে। সে প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের আটক করে কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন আচরণে এবং মামলার কারণে অভিভাবকদের আতঙ্ক ও উদ্বেগে থাকার কথাও রিজভী বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সামাজিক অগ্রগতি ও সভ্যতার শত্রু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এরা মানসিক বৈকল্যগ্রস্থ। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করছে না। সরকার এখন ক্রোধের খেলায় মেতে উঠেছে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের এই জাগরণ ‘দুঃশাসনের বিরুদ্ধ ‘। দমন-পীড়নে শিশু-কিশোরদের এই জাগরণ বন্ধ করা যাবে না। যতই ষড়যন্ত্র ও তৎপরতার কথা বলুক না কেন আওয়ামী নেতারা, দুঃশাসনের বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। দৃক গ্যালারির কর্ণধার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে রিমান্ডে নেওয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, নির্যাতিত শহিদুল আলমকে চিকিৎসার দিতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ সরকারের হুকুমে তাকে ভর্তি নেয়নি।ৃ ওই হাসপাতালে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিকিৎসা হয় না। ভিন্ন মতাবলম্বীদের সেখানে সুচিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনের মধ্যে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে না যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সমালোচনা করেন রিজভী।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top