ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেও যানজট নিরসন হয়নি

ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্যেও যানজট নিরসন হয়নি

আসাফুর রহমান কাজল
মহানগরীকে যানজট মুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হলেও এখনও সফলতা আসেনি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট লেগেই আছে। দায়িত্বরত পুলিশের অধিকাংশই যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ইন্স্যুরেন্সসহ নানা কাগজপত্র ও এ সবের মেয়াদ যাচাই-বাছাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লেগেই আছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে ৫ আগস্ট। আর চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে ৫ দিন। এ ৫ দিনে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় ২ হাজার ৬০৬টি মামলা রুজু হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ ১১ লাখ ৪৬ হাজার ৩শ টাকা। মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ এর বিভিন্ন ধারায় যানবাহনের ট্যাক্স টোকেন না থাকা, ফিটনেস না থাকা, রুট পারমিট না থাকা, ইন্স্যুরেন্স না থাকা ইত্যাদি কারণে ১ হাজার ২শ ২টি যানবাহনের বিরুদ্ধে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইলফোনে কথা বলা, হেলমেট ব্যবহার না করা, মোটরসাইকেলে ২ (দুই)’র অধিক আরোহি থাকা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, আদেশ অমান্য করা ইত্যাদি কারণে ১ হাজার ৪শ ৪ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শহরের ২৯টি পয়েন্টে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরবাইকের বিরুদ্ধে ৪শ ২০টি মামলা রুজু করা হয়। যার আদায়যোগ্য জরিমানা ২ লাখ ৭ হাজার ৮শ টাকা। সাধারণ চালক এবং নগরবাসী বলছেন, ট্রাফিক সপ্তাহে প্রতিদিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু নগরীর যানজট নিরসন হচ্ছে না। ট্রাফিক পুলিশ শুধুমাত্র মামলা রুজু করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রূপসা মোড়, রূপসা ব্রিজ মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, পিটিআই মোড়, মডার্ন মোড়, রয়েল মোড়, সাত রাস্তার মোড়, ময়লাপোতা মোড়, শিববাড়ি মোড়, নিরালা মোড়, গল্লামারি মোড়, সোনাডাঙ্গা মোড়, বয়রা মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, থানার মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়, ডাকবাংলা মোড়, ফেরীঘাট মোড়, নিউমার্কেট মোড়, নতুন রাস্তার মোড়, বিএল কলেজ মোড়, মহসিন মোড় এবং রেলিগেট এলাকায় প্রতিনিয়তই যানজটের কবলে পড়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে নগরবাসী।
মহানগরীর একটি প্রাইভেট কোম্পানির ডাইভার মোঃ আসাদুল ইসলাম জানান, পুলিশ যেকোনো জায়গায় গাড়ি দাঁড় করাচ্ছে। কিন্তু যানজটের কথা চিন্তা করছে না। তারা কোন কারণে মামলা দিবে সেদিকে খেয়াল। এখন খুলনা নগরীতে একটি বড় সমস্যা যানজট। সেদিকে কারও খেয়াল নেই। হয়তো যানজট নিরসনে নতুন কোনো সপ্তাহ করতে হবে।
ট্যাংক রোড এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, উদ্যোগ ভাল কিন্তু সফলতা আসেনি। ট্রাফিক সপ্তাহ পালনে রয়েছে থানার পুলিশ। ফলে তারা শুধুমাত্র মামলায় ব্যস্ত। মামলা বাড়লো আর সরকারি কোষাগার সমৃদ্ধ হলো। কিন্তু সাধারণ নগরবাসীর ভোগান্তি কমেনি।
মিস্ত্রিপাড়া এলাকার মোঃ মিকাইল হোসেন জানান, নগরীর যানজটের প্রধান হোতা ইজিবাইক। এরা যেকোনো জায়গায় ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। কোনো সাইড নেয় না। কোনো নিয়ম মানে না। হুট করে পেছন থেকে ঠেলে ওঠে। ট্রাফিক পুলিশের এমন ভাল উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে এদের জন্য। ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে নগরীর যানজট সহনশীল মাত্রায় আসবে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি, ট্রাফিক মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, খুলনা মেট্রাপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সকল বাইক ড্রাইভারকে গাড়ির সকল ডকুমেন্টস সঙ্গে রাখা, সকল আরোহিকে হেলমেট ব্যবহার করার আহবান জানানো হয়েছে। ধীর গতি সম্পন্ন যান যেমন অটোবাইক, রিক্সা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ী, বাই-সাইকেল রাস্তার বাম পাশ ঘেঁষে, ডান সাইডে দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য জায়গা রেখে চলার জন্য অনুরোধ করা হলো। সকল ড্রাইভারকে গাড়ি চালনার সময় মোবাইলফোনে কথা না বলার জন্য অনুরোধ করা হলো।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top