সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৯৭ জনে ১০ জন পাস, অঙ্গীকারনামায় রেজাল্ট সিট

মো. নাজমুল হাসান : সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গ’ বিভাগের ৯৭ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০ জন এবং ফেল ৮৭ জন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে এ অবস্থা। ওই শ্রেণির শ্রেণিশিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট সিট দেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে।
জানা গেছে, খুলনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গ’ বিভাগে শিক্ষার্থী ৯৭ জন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয় এই পরীক্ষা। প্রকাশ করা হয়েছে ৮ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ফলাফল। প্রকাশিত ফলাফলে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গ’ বিভাগে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১০ জন। আর ফেলের খাতায় নাম লিখিয়েছে ৮৭ জন। ফলাফল প্রকাশ করা হলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। এদিকে স্কুলের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট সিট দেওয়া হচ্ছে অঙ্গীকারনামায় সাক্ষরের মাধ্যমে। যেখানে সাক্ষর করতে হচ্ছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের।
সরেজমিন স্কুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অঙ্গীকারনামায় সাক্ষরের মাধ্যমে রেজাল্ট সিট নিতে দেখা যায়। স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফলাফল সিট প্রধান শিক্ষক নিজেই দিচ্ছেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুলের পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে। যার কারণে পাসের হার কম।
স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক লাভলী বেগম বলেন, তার সন্তান ভাল পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু ফলাফল দেখে তারা হতাশ হয়েছেন। সামনের পরীক্ষায় যাতে ভাল করতে পারে সে জন্য তিনি সচেষ্ট হবেন।
স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ‘গ’ বিভাগের শ্রেণিশিক্ষক ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক নিলুফা জামান বলেন, তার শ্রেণিতে ৯৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার মধ্যে পাস করেছে ১০ জন। বাকিরা ফেল করেছে। বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঠাকুরদাস দেবনাথ বলেন, তিনি এখনও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। আর ফলাফলের সকল শ্রেণির পরিসংখ্যান তার কাছে নেই। আর ফলাফল প্রকাশের পরেও কিছু কাজ থাকে। শিক্ষার্থীরা যাতে ভালোর দিকে যায় সে জন্য অঙ্গীকারনামায় সাক্ষরের মাধ্যমে রেজাল্ট সিট দেওয়া হচ্ছে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top