খুলনায় ট্রেনের বুকিং কাউন্টারে নির্দিষ্ট পোশাকহীন কারা!

পেছনের গেটে টিকিট বিক্রি, মাস্টারহীন স্টেশন

মো. নাজমুল হাসান
সকাল সাড়ে সাতটায় খুলনা রেলস্টেশন। টিকিট প্রত্যাশিদের দীর্ঘ লাইন। ক্রমান্বয়ে তা বাড়ছে। কখন ঘড়ির কাঁটায় ৮টা বাজবে, ছাড়বে ২৬ আগস্টের অগ্রিম টিকিট সেই ক্ষণ গুণছে সবাই। বেনাপোলগামী ট্রেন ছেড়ে গেলেও পাওয়া যায়নি স্টেশন মাস্টারকে। ঘড়ির কাঁটায় ৮টা বাজতেই বুকিং কাউন্টারের পেছনের তালাবদ্ধ গেট খুলে রেলওয়ের নির্দিষ্ট পোশাক ছাড়াই একজনকে ঢুকিয়ে নেয় কাউন্টারের একজন পোশাকধারী লোক। সকাল থেকেই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাকধারী লোকদের কাউন্টারের মুখে ভিড় করতে দেখা যায়। পুলিশের তৎপরতা প্রথম দিকে ঠিক থাকলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে তাও কমে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই লাইনের প্রথম দিকের লোকদের স্টেশনের লোক পরিচয়ে বলাবলি করতে দেখা যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি ছিল সক্রিয়। স্টেশনের মাস্টারকে না পাওয়া গেলেও রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন রেলওয়ের লোকজন পেছনের গেট থেকে টিকিট নিতে পারেন। কোথাও টিকিট বেশি দামে বিক্রি করা হলে তাকে সেখান থেকেই ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, খুলনা রেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো ২৬ আগস্টের ফিরতি টিকিট দেওয়া হয়। ফিরতি টিকিট কি পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে তা জানা নেই কোনো যাত্রীদের। আর এই বিষয়টি সর্বদাই এড়িয়ে যান মাস্টারসহ কাউন্টারের দায়িত্বরতরা। সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়। কিন্তু বিক্রি শুরুর দুই পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এসি টিকিট নেই নেই রব ওঠে। কপালে জোটে না সোনার হরিণ নামক এসি টিকিট। থাকে সাধারণ টিকিট। তাও কারও ভাগ্যে জোটে আর কারও ভাগ্যে জোটে না।
দৌলতপুর থেকে টিকিট কিনতে আসা এক শিক্ষার্থী আজগর আলী বলেন, তিনি ভোর ৫টায় এসেছেন। এসেই দেখেন কাউন্টারের মুখে কিছু লোক লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারাই মূলত এসি টিকিট কিনে নিয়ে যায়।
খালিশপুর থেকে আসা রওশান আরা আক্তার নামের এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, তিনি প্রবেশের সময় কাউন্টারের পেছনের গেটে দুই-একজনকে কথা বলতে ও টাকার বিনিময়ে টিকিট নিতে দেখেছেন। অথচ তিনি সেখানে যেয়ে কথা বলতে চাইলে সিসি ক্যামেরার কথা বলে চলে যান। আর গেটে তালা মারা থাকায় ভেতরে যাওয়া যায় না।
দুপুর সাড়ে ১২টায় আবারও এই প্রতিবেদক স্টেশনে গেলে মাস্টারকে পাওয়া যায়নি। কাউন্টারের পেছনের গেট দিয়ে সকালে প্রবেশকারী সেই লোক ও রেলের পোশাকধারী এক লোককে টাকার বিনিময়ে নোটবুকের ভেতর থেকে টিকিট দিতে দেখা যায়। তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি তড়িঘড়ি সিসি ক্যামেরার কথা বলে চলে যান। একটু পরেই সকালের সেই লোক জহুরুল হক আসেন ভেতর দিয়ে গেটের কাছে। তার সাথে কথা বলতেই তিনি বলেন, তিনি এখানে চাকরি করেন না। তিনি তার ব্যক্তিগত কাজে এসেছেন। তার ট্রেনের পুরাতন টিকিটের দায়িত্ব রয়েছে। তার সাথে একজন অল্পবয়সী যুবককে দেখা যায়।
বুকিং সহকারী প্রশান্ত কুমার ঢালী বলেন, টিকিট বিক্রি শুরুর সাথে সাথে তিনি লাইনের গ্রাহকদের এসি টিকিট ধারাবাহিকভাবে দিয়েছেন।
বুকিং সহকারী মনির হোসেন বলেন, কোনো কেবিন নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন এক কথা কতবার বলতে হবে।
অথচ খুলনা থেকে ঈদ উপলক্ষে কোনো ধরনের কেবিন ট্রেনে থাকবে না বলে জানা গেছে।
স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকারের তালাবদ্ধ কক্ষ তখনও দেখা যায়। তার মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের লোকজন তাদের ব্যক্তিগত কিছু টিকিট পেছনের গেট দিয়ে নিতে পারেন। ওরা বাইরের কেউ না। আর ভেতরে রেলের লোকজন ঢুকতে পারেন। যদি তারা টিকিট নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন তাহলে তাদেরকে ধরে আনা হবে।
উল্লেখ্য, কাউন্টারের প্রবেশ পথেই স্টেশন মাস্টারের সাক্ষরিত নোটিশে লেখা রয়েছে টিকিট বিক্রির সময় দায়িত্বরত নির্দিষ্ট পোশাকধারী লোকজন ছাড়া অন্য কোনো লোকজন কাউন্টারে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমন থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা রয়েছে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top