খুলনায় মেঘনা ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকা-, নিহত ২

খুলনায় মেঘনা ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকা-, নিহত ২

তেল সরবরাহ পয়েন্টে বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত
দুর্ঘটনায় আহত ৭, গুরুতর দগ্ধ ৩ জনকে ঢাকায় প্রেরণ

কামরুল হোসেন মনি/লিয়াকত আলী/জাকিরুল ইসলাম
খুলনার খালিশপুরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের তেল ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে মহানগরীর নতুন রাস্তা কাশিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হচ্ছেন- মেঘনা ডিপোর কর্মচারী মো. কামাল হোসেন (৫১) ও ট্যাংকলরি শ্রমিক মো. রাজু (২২)। ডিপোর তেল সরবরাহ পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ডিপোতে একই সাথে দু’টি ট্যাংকলরিতে (গাড়ি) পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছিল। হঠাৎ করেই তেল সরবরাহ পয়েন্টে বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তেলের আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দগ্ধ ও আহত হয় ট্যাংকলরি চালক আঃ ওহাব (৪৫), রুবেল মীর (২৬), মো. ইসমাইল (৫৫), আনোয়ার হোসেন (২৫), মোজাম্মেল (৩৫), সুজন (২৫) ও অজ্ঞাত (২৫)। এদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবেল মীর (২৬), মো. ইসমাইল (৫৫) ও সুজন (২৫)কে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আগুনে এদের শ্বাসনালীসহ শরীরের অধিকাংশ পুড়ে গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত ট্যাংকলরি চালক আঃ ওহাব জানান, ‘তেল সরবরাহ পয়েন্টে একই সাথে আমার গাড়িতে (চুয়াডাঙ্গা ঠ ৪১-৩০২) পেট্রোল ও পাশে আরেকটি গাড়িতে অকটেন লোড দেওয়া হচ্ছিল। হঠাৎ করেই অকটেনের সরবরাহ পয়েন্টে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এই আগুন ছড়িয়ে পড়লে আমার গাড়িসহ আরও তিনটি গাড়ি পুড়ে যায়। ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নূর ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুন দেখে আশেপাশের কর্মরত শ্রমিকরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। একই সাথে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, আগুনে দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। এদিকে খবর পেয়ে হতাহতের আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেন। এসময় তাদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরীন সুলতানা জানান, অগ্নিদগ্ধ ৪ জন ও গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ ৫ জনকে বার্ন ইউনিটে এবং শারীরিকভাবে আহত দুইজনকে সার্জারী ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো. জামিরুল ইসলাম জানান, আগুনে নিহতদের শরীর পুরোপুরি ঝলসে গেছে। ঘটনাস্থলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট পৌনে ১ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকা-ের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে। তেল ডিপোর একটি সূত্র জানায়, ট্যাংকলরিতে তেল দেওয়ার সময় প্রচ- গ্যাসের চাপে ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটতে পারে। মেঘনা ডিপো ইনচার্জ জিয়াউর রহমান জানান, মেঘনা ডিপোর একটি ডিজেল পাম্প ব্যতীত অন্য পাম্প আপাতত বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক আহতদের দেখতে খুমেক হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সোমবার বিকেলে নগরীর খালিশপুরস্থ মেঘনা অয়েল ডিপোতে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানসমূহ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি অগ্নিকা-ে নিহতদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এছাড়া তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। কেসিসি’র কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ দৌলতপুর ডিপো’র ম্যানেজার (অপারেশন) শেখ জিয়াউল ইসলাম, স্থানীয় সমাজসেবক লিটন খান, শেখ সাদী, মাহবুব আলম বাদশাহ, নাদীম হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top