খালিশপুরে সোনিয়া হত্যা রহস্য আড়াই মাসেও উন্মোচন হয়নি

খালিশপুরে সোনিয়া হত্যা রহস্য আড়াই মাসেও উন্মোচন হয়নি

আগামী ১৬ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য

স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর খালিশপুরে সোনিয়া আক্তার (২০) হত্যার রহস্য গত আড়াই মাসেও উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মা হারা দুগ্ধজাত শিশু সুমন হাসান (২) খুঁজছে তার মাকে। অন্যদিকে সোনিয়া হত্যার ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলার শুনানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর হাকিমের আমলী আদালত “গ” অঞ্চলে এ মামলার শুনানি শেষে আদালত আগামী ১৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
রূপসা উপজেলার আইচগাতীর সেনের বাজার ঘাট সংলগ্ন ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া সোনিয়া আক্তারের হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি খালিশপুর উত্তর কাশিপুর পোড়াবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন আক্কাস আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া নির্মাণ শ্রমিক মোঃ মিন্টু সরদারের স্ত্রী। তিনি একজন দর্জি ও গৃহপরিচারিকা ছিলেন।
এদিকে গৃহবধূ সোনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৭ জুন মহানগর হাকিমের আমলী আদালত গ অঞ্চলে জোবেদা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়েকে বাড়িওয়ালার পরিবার যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন। যার সি/আর নং-২৪৭/১৮। অভিযোগে বাড়িওয়ালার বড় মেয়ে আকলিমা (২৪), আঃ সালামের পুত্র সাদ্দাম হোসেন (৩০), বাড়িওয়ালা আক্কাস আলী শেখ (৫০), আঃ সালামের ছোট পুত্র তরিকুল ইসলাম (২৮) ও আক্কাসের ছোট পুত্র মোঃ ইব্রাহিমকে (১৯) অভিযুক্ত করা হয়।
বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডঃ মোহাম্মাদ আলী বাবু। তিনি বলেন, মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত আগামী ১৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। তিনি মামলাটি পিআইবিকে তদন্তের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে লাশের ভিসেরা রিপোর্টের জন্য ঢাকায় আবেদন করেছেন মর্মে আদালতকে অবগত করায় আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনিয়ার হত্যার ঘটনায় রহস্যজনক আচরণ করছেন। তিনি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে যত না আগ্রহী তার চেয়ে বেশি আগ্রহী সোনিয়া আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়টি প্রমাণ করতে। এমন কি বাদীকে আসামিদের পক্ষে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জিডি করা হলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই।
খালিশপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আবুল খায়ের বলেন, সোনিয়ার লাশের ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়া জন্য তিনি ইতোমধ্যে ঢাকা মহাখালিতে আবেদন করেছেন। শিগগিরই ভিসেরা রিপোর্ট পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
নিহতের মা জবেদা বেগম জানান, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল ইতোমধ্যে তারা সবাই এলাকায় এসে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমন কি তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এমন কি যারা সোনিয়া হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করেছে তাদেরকেও নানাভাবে প্রভাবিত করছে আসামিরা।
উল্লেখ্য, ২১ জুন বাড়িওয়ালা আক্কাস ও তার পরিবারের লোকজন দর্জি শ্রমিক সোনিয়াকে বেদম প্রহার করে। এরপর থেকে সোনিয়ার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২৩ জুন আইচগাতী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি মহিলার লাশ নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে সোনিয়ার স্বামী মিন্টু সরদারসহ এলাকার লোকজন গিয়ে লাশটি সোনিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top