১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবলো খুলনা

১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবলো খুলনা

আসফুর রহমান কাজল : ৪৫ মিনিটের ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতে পানির নিচে নগরী। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পানি জমে থাকছে রাস্তায়। ফলে চলাচলের রাস্তা সরু হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর পানির নিচের খানাখন্দ ও গর্তের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগে নগরবাসী।
বুধবার বেলা ৩টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত টানা ৪৫ মিনিটের বৃষ্টি হয় নগরীতে। এসময় খুলনা আবহাওয়া অফিস ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে। এর ফলে মহানগরীর রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার নগরী ঘুরে দেখা যায়, অল্প বৃষ্টিতে নর্থ খাল ব্যাংক রোড, পিটিআই মোড়, রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, শামসুর রহমান রোড, টুটপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, নতুন বাজার, স্যার ইকবাল রোড, মির্জাপুর রোড, দোলখোলা রোড, মিয়াপাড়া, কেডিএ এভিনিউ, জোড়াগেট, খালিশপুর বাস্তুহারা, বয়রা এলাকা, মুজগুন্নী, গোয়ালখালি মোড়, হাউজিং বাজার, নতুন কলোনী, দৌলতপুর, খালিশপুর, বাইতিপাড়া, তালতলা, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, শামসুর রহমান রোড, সোনাডাঙ্গা মোড়, নিরালা এলাকার রাস্তায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। শুধু বৃষ্টির পানিই নয়। সড়কের আশেপাশের নর্দমার নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ থেকে যাচ্ছে সেই জলাবদ্ধতা। ফলে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার এ সুযোগে রিক্সা ও ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
নগরবাসী বলছেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ভালো রাস্তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় আবার রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলে আসলেও পানি নিষ্কাশন কিংবা রাস্তাগুলো সংস্কারে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। অথচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো জলাবদ্ধতা নিরসন।
নগরীর রূপসা এলাকার ইজিবাইক চালক মোঃ শিমুল হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে ইজিবাইক চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গাড়ির ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশে পানি ঢুকে যাওয়ায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া অনেক জায়গায় পানির নিচে বড় বড় গর্ত থাকে। সেগুলো বুঝে ওঠতে না পারায় গাড়ি উল্টে যায়।
নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ কায়কোবাদ জানান, একটু বৃষ্টি হলেই খুলনার সব সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নামতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় সকলকেই।
খুলনা নাগরিক আন্দোলনের মহাসচিব এসএম দেলোয়ার হোসেন জানান, মূলত অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা-আবর্জনা, ময়ূর নদীসহ ২২ খাল ভরাট এবং অবৈধভাবে দখল ও বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীদের মৎস্য চাষসহ নানা কারণে নগরীতে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণ ও সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ববান এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং তার পাশাপাশি ময়ূর নদীসহ ২২ খাল দখলমুক্ত করতে হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবীর জানান, অতি বৃষ্টির ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতা থাকলেও বিগত দিনে সরকারের কাছ তেমন কোনো সাহায্য সাহায়তা সিটি কর্পোরেশন পায়নি।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল আজাদ জানান, বুধবার বেলা তিনটা কুড়ি মিনিট থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয় নগরীতে। এসময় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১৯ মিলিমিটার। পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিছু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে দেখা যায়। আজও কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা-আবর্জনা, খাল ভরাট, অবৈধ দখল ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষসহ নানা কারণে সামান্য বৃষ্টিতে নগড়জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হন লাখ মানুষ। পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা। এ থেকে পরিত্রাণ চায় নগরবাসী।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top