কেসিসির ৬শ ৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

কেসিসির ৬শ ৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বর্তমান পরিষদের শেষ সময়ে সর্ববৃহৎ বাজেট
এবার অর্জন ৫৮.২৯%

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কর্তৃপক্ষ ৬শ ৩৭ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার অনুদান নির্ভর বাজেট ঘোষণা করেছে। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গতকাল সকাল ১১টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বাজেট উপস্থাপন করেন। একই সাথে তিনি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২শ ৫৫ কোটি ৭৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করেন। এ সংশোধিত বাজেটের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৪৪০ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হার ৫৮.২৯%। এ বাজেটই ছিল তার পরিষদের শেষ বাজেট। ঘোষিত বাজেটের মূল বৈশিষ্ট হচ্ছে ছ’টি।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১শ ৮১ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪শ ৫৫ কোটি ২০ লাখ ৮ হাজার টাকা। নিজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা, সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতি এবং জনসাধারণের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সিটি মেয়র জানান।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মোঃ গাউসুল আজম এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা। অনুষ্ঠানে কেসিসি’র কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা, নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিটি মেয়র প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়নমুখি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বাজেটে নতুন কোনো করারোপ করা হয়নি। নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি এ বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পার্ক, ধর্মীয় উপসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কেসিসি’র বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা অটোমোশনের আওতায় আনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মশক নিধনের সাথে সাথে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে।
বাজেটের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা দিতে গিয়ে সিটি মেয়র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে ক্ষতি নিয়মিত হচ্ছে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দিক নির্দেশনা রাখা হয়েছে এ বাজেটে। নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজস্ব খাত থেকে এ বাজেটে ৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাত থেকে থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসি’র ২টি প্রকল্পে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এটা আঞ্চলিকভাবে আন্দোলন করে তেমন সফলতা পাওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে লড়তে হলে জাতীয়ভাবে আন্দোলন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বাজেট অনুষ্ঠানে কেসিসি মেয়র জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে “খুলনা মহানগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে” ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। “খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পে” বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সিটি মেয়র বলেন, নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য তারা সরকারের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, এফএও, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড)সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ করছেন। তারাও আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলমান রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ২৮১ কোটি ৮৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বাজেট অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, বর্তমান পরিষদ নাগরিক সেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে কিছু কাজ চলমান রয়েছে যা নতুন পরিষদ এসে সম্পন্ন করবেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হার ৫৮.২৯%। সরকার ও দাতা সংস্থা থেকে আশানুরূপ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে বাজেটের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিএমডিএফ (বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১শ ১১ কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে কোনো অর্থ ছাড় না করায় গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সিটি মেয়র আরও বলেন, খুলনা আমার প্রিয় নগরী। দায়ীত্বশীল না থাকলেও এ নগরীর মানুষের কল্যাণে আজীবন নতুন পরিষদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাবো। তিনি কেসিসির নতুন পরিষদকে স্বাগত জানান এবং তাদের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, বর্তমান পরিষদের এ বাজেট শেষ বাজেট হলেও পরাজিত কাউন্সিলরদের মধ্যে অধিকাংশই ঘোষিত বাজেট অধিবেশনে ছিলেন না। তবে এ বাজেট বর্তমান পরিষদের ঘোষিত বাজেটের আকার সবচেয়ে বড়। এ পরিষদের ঘোষিত বাজেটের মধ্যে রয়েছে-২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৮৫ কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪২২ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৬৮ কোটি টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট হচ্ছে প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা।
গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন খুলনার আহবায়ক অ্যাড. কুদরত ই খুদা ঘোষিত বাজেট নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, কেসিসির অনুদান নির্ভর বাজেট তৈরি করেছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নিজস্ব তহবিল সমৃদ্ধের ওপর জোর দেওয়া উচিত বলে এ নাগরিক নেতা মনে করেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top