বরিশালের ৪ রাজাকারের মামলাটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ

প্রবাহ রিপোর্ট : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার চার রাজাকারের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরন করেছেন বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আমলী আদালতের বিচারক মোঃ ফারুক হোসাইন।
গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন শিপু এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ফলে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করবেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৪ অক্টোবর উজিরপুরের তালিকাভুক্ত চার রাজাকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ধামুড়া বন্দরে অগ্নিকা-, লুটপাট, ধর্ষন ও গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার মুন্ডুপাশা গ্রামের বাসিন্দা নান্নু সিকদার। মামলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের তালিকাভূক্ত রাজাকার এনায়েত হোসেন খানসহ তার সহযোগী বেল্লাত আলী বিশ্বাস, জলিল খান ও শাহ আলম খানকে আসামি করা হয়েছে। আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন শিপু জানান, বিচারিক আদালতের বিচারক ১০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রেরন করেছেন। বরিশাল জেলায় এই প্রথম রাজাকারদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সালাউদ্দিন শিপু আরও বলেন, বিচারক মামলাটি সম্পর্কে যে আদেশ দিয়েছেন তাতে আমরা বেশ খুশি। বরিশাল জেলায় প্রথম যুদ্ধাপরাধের মামলা হিসেবে এটা একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। মামলার বাদী নান্নু সিকদার বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক হিসেবে মামলাটি দায়ের করেছি। এখন অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠ তদন্ত করে দ্রুত বিচার করা হলে জাঁতি কলঙ্কমুক্ত হবে। সূত্রমতে, উজিরপুরের শিকারপুর ইউনিয়নের জয়শ্রী গ্রামের কলম খানের পুত্র তালিকাভূক্ত রাজাকার এনায়েত খান দেশ স্বাধীন হবার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের পর সে (এনায়েত খান) নিজ বাড়িতে ফিরে এসে পুর্নরায় ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়। একপর্যায়ে এনায়েত খান ৮০’র দশকে সন্ত্রাসী সর্বহারা গ্রুপের সক্রিয় কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে। তার ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি উজিরপুর থানার তৎকালীন ওসি শেখ আবদুল মান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রব সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাধারণ জনতা। র‌্যাব ও পুলিশের হাতে একাধিকবার আটক হওয়া রাজাকার এনায়েত খান নানাভাবে আইনের ফাঁকফোকর পেরিয়ে বেরিয়ে আসে। উজিরপুর এলাকার জমি দখল থেকে শুরু করে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এনায়েত খানের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে রাজাকার এনায়েত খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ভূক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top