১০ বছরের অপরাধের বিচারে শেখ  হাসিনাকেই কারাগারে যেতে হবে

১০ বছরের অপরাধের বিচারে শেখ হাসিনাকেই কারাগারে যেতে হবে

বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে মঞ্জু

স্টাফ রিপোর্টার : গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, গত ১০ বছরে দেশে যতো নারকীয় হত্যাকা-, খুন, গুম, দুর্নীতি, অনিয়ম, দুরাচার, স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে তার জন্য শেখ হাসিনার বিচার হবে এবং তাকে কারাগারে যেতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জানেন আবারও ক্ষমতায় যেতে না পারলে তার পরিণতি কি হবে। এ জন্য যে কোনো উপায়ে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে তারা মসনদ দখলের পাঁয়তারা করছে। কিন্তু সে সুযোগ আর তারা পাবেনা। আগামী এক মাসের ভেতরে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে এবং জনগণের বিজয় হবে।
ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ কথা বলেন।
সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশস্থলের আশেপাশে সকাল থেকেই ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশের কর্ডন।
প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা খ- খ-ভাবে সমাবেশস্থলে হাজির হন। নগরীর প্রতিটি থানায়, ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশের তল্লাশি ও গণগ্রেফতার অভিযান এবং গায়েবি মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা জানান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বলেন, সরকার পুলিশের ওপর ভর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেলে পুলিশের আচরণ বদলে যাবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশে গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করা হয়, বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, বাকশাল কায়েম করে সবাইকে বাকশাল করতে বাধ্য করা হয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মঞ্জু বলেন, সরকার জোর করে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আগাম আদায় করেছে, যাতে নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী এক মাস এ নিয়ে তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত থাকতে পারে। তারা তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালাবে। বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং বারবার জনগণের ভোটে দলটি ক্ষমতায় আসে। এ জন্য তাদেরকে মানুষ হত্যা করতে হয়না। বরং আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় আসার জন্য এবং ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মানুষ হত্যা করতে হয়। নির্বাচনের আগে এই সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ও নতুন কমিশন গঠন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ বিএনপির ৭ দফা মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
শেখ সাদির পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, মোল্লা আবুল কাশেম, রেহানা আক্তার, স ম আব্দুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ফখরুল আলম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান দীপু, মহিবুজ্জামান কচি, আজিজুল হাসান দুলু, ইকবাল হোসেন খোকন, সাদিকুর রহমান সবুজ, এহতেশামুল হক শাওন, জালু মিয়া, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবির, একরামুল হক হেলাল, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, রবিউল ইসলাম রবি, বদরুল আনাম, ইশতিয়াকউদ্দিন লাভলু, জামিরুল ইসলাম, তরিকুল্লাহ খান, আফসারউদ্দিন মাস্টার, মীর কবির হোসেন, হাবিব বিশ্বাস, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, মোঃ ওহেদুজ্জামান, আবুল কালাম শিকদার, আলমগীর হোসেন বাদশা, তরিকুল ইসলাম, সরদার রবিউল ইসলাম, মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল, শফিকুল ইসলাম শাহিন, তারেক হাবিবুল্লাহ, আসলাম হোসেন, নাসির খান, ওমর ফারুক, বাচ্চু মীর, মোস্তফা কামাল, আব্দুল আলিম, তৌহিদুল ইসলাম খোকন, আবু সাঈদ শেখ, মাহবুব হোসেন, নিঘাত সীমা, হাসনা হেনা, সাবিনা ইয়াসমিন, কাজী মাহমুদ আলী, মিজানুর রহমান খোকন, লিটন খান, শাহাবুদ্দিন মন্টু, আব্দুর রহমান, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, মেহেদী হাসান সোহাগ, জাহিদুর রহমান রিপন, জি এম রফিকুল হাসান, জাহাঙ্গীর হোসেন, খান মইনুল হাসান মিঠু, মোহাম্মদ আলী, জাকারিয়া লিটন, কাজী নজরুল ইসলাম, ওলিয়ার রহমান ওলি, মুছা খান, হেদায়েত হোসেন হেদু, মনিরুল ইসলাম, ওহেদুজ্জামন খোকন, আবু বক্কার, ডাঃ ফারুক হোসেন, আলম হাওলাদার, আলমগীর হোসেন, তরিকুল ইসলাম বাশার, ওহিদুজ্জামান ওহিদ প্রমুখ।
বুধবার রাতে দৌলতপুর থেকে গ্রেফতার ৩নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা তৌহিদুল হুদা লিটনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি এবং মহানগর বিএনপির পরিবার পরিকল্পনা সম্পাদক মোঃ শাহজাহানের সুস্থতা কামনা করা হয় সমাবেশে।

SHARE THIS NEWS

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top