Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনায় বিকাশ প্রতারণার ফাঁদে নিরীহ মানুষ, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

খুলনায় বিকাশ প্রতারণার ফাঁদে নিরীহ মানুষ, কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

শেখ ফেরদৌস রহমান
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ সহজেই মোবাইলে টাকা লেনদেন এর জন্য একটি জনপ্রিয় পন্থার নাম। মিনিটেই হয়ে যাচ্ছে নগদ টাকার লেনদেন। মোবাইল বিকাশে চার সংখ্যার একটি গোপন পিন নাম্বারও থাকে। আর ওই পিন নাম্বারটি বিকাশের লেনদেনের সিকিউরিটি হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে এ ক্ষেত্রে বসে নেই প্রতারক চক্র। তারা প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আর হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
খালিশপুর ব্র্যাকের শিক্ষা শাখার এনজিও কর্মী নাজমুন নাহার সাথী বলেন, গত দুই ডিসেম্বর সকাল ১১টায় খালিশপুর মুহসিন কলেজের সামনে মোজাহিদ ফটোস্ট্যাট বিকাশ এজেন্ট দোকানে গিয়ে দশ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করি। এরপর হঠাৎ বেলা সোয়া একটার দিকে ০১৮৮০৭৬২৩৬৭ নাম্বার থেকে একটা ফোন আসে। ফোন রিসিভ করলে ওপাশ থেকে বলা হয়, ম্যাডাম আপনি এই মাত্র আমার দোকান থেকে দশ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে গেলেন। কিন্তু আপনাকে আমি ভুল করে টাকা সেন্ড করে ফেলছি। আপনার কোনো ম্যাসেজ আসছে দেখেন তো। তার কিছুক্ষণ পর আবার বলেন কি ম্যাসেজ পেয়েছেন। হ্যাঁ পেয়েছি বলার পর মূল ব্যালেন্স এ টাকা যোগ হয়েছে দেখা যায়। পরবর্তীতে তার অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দেখা যায় তার ব্যালেন্সে আর কোনো টাকা নেই। পরে তিনি বিকাশ’র ওই এজেন্ট দোকানে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা আপনাকে কোনো ফোন দেইনি। আপনার মত সকালেও একজন ভুক্তভোগি এসে একই অভিযোগ করেছেন। আপনি প্রয়োজনে ওই ফোন নাম্বারে জিডি করেন।
খালিশপুর বাস্তুহারা সেমিপাকা কলোনীর বাসিন্দা গৃহিণী নিতু বেগম বলেন, আমাকেও একইভাবে ফোন করে বলেছে আপনার অ্যাকাউন্টে ভুল করে পাঁচ হাজার টাকা গেছে। আপনি আমাকে ফেরত দেন, আমার মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য টাকা পাঠিয়েছে বাড়ি থেকে। মহিলাও দেখেন তার মূল অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ হয়েছে। ম্যাসেজও আসছে। তিনি তখন তাকে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দেখেন তার অ্যাকাউন্টেও পাঁচ হাজার টাকা নেই।
তাছাড়া খালিশপুর নিবাসী মিজানের স্ত্রী শিরিনা বেগমকে তিনি ৩ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন তার সংসার খরচ বাবদ। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরই একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে বলে, আমরা বিকাশ কোম্পানি থেকে বলছি আপনার অ্যাকাউন্টে আপনার জন্ম তারিখ ঠিকমত দেওয়া হয়নি। আমাদের সঠিক জন্ম তারিখটা বলেন ভুক্তভোগি সরল মনে তার জন্ম তারিখ বলার সাথে সাথে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ হাজার টাকা উধাও হয়ে যায়।
খুলনা বিকাশ এর টেরিটরি অফিসার সাব্বির আহমেদ বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কোনো উত্তর দিতে পারবো না। এটা আমাদের হেড অফিসের ব্যাপার। খুলনায় কেন হচ্ছে বা কারা প্রতারণা করছে আমরা কিছুই বলতে পারবো না। এ বিষয়ে মিডিয়ায় কোনো বক্তব্য দেওয়া নিষেধ আছে বলেই তিনি এড়িয়ে যান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*