Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / প্রতারণার ফাঁদে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

প্রতারণার ফাঁদে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহার হচ্ছে ‘ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দ

এম এ কবির : সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার সুযোগে এক শ্রেণির মানুষ বাড়িভাড়া নিয়ে চালু করছে কিন্ডার গার্টেন ব্যবসা। এসকল কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো নামের আগে ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল তকমা লাগিয়ে করছে বাণিজ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসকল নাম ব্যবহার করছে কিন্ডার গার্টেন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সকল কিন্ডার গার্টেন এবং মাদ্রাসার নামকরণে ‘ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দ দুটি রাখা যাবেনা, এই মর্মে আদেশ জারী করেছেন।
অপরদিকে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি কোচিং ব্যবসা চালিয়ে রাখতে কিন্ডার গার্টেন স্কুল খুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব শিক্ষকরা।
কিন্ডার গার্টেন এবং মাদ্রাসার নামকরণে ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল নাম দুইটি ব্যবহার করছে, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল কিন্ডার গার্টেন স্কুল, গোয়ালখালী ক্যাডেট স্কিম মাদ্রাসা, আন-নূর ইন্টারন্যাশনাল নূরানী মাদ্রাসা, সাকসেস প্রি-ক্যাডেট স্কুল, প্রাইম রোজ প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড স্কুল, চিলডেন ক্যাডেট স্কুল, চাইল্ড হেভেন প্রি ক্যাডেট স্কুল, ইসলামিয়া ক্যাডেট কিন্ডার গার্টেন স্কুল, শিশু বিকাশ প্রি ক্যাডেট কিন্ডার গার্টেন স্কুল, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল-২, জনতা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, কথা প্রি-ক্যাডেট স্কুলসহ নগরীর অলিগলিতে শতাধিক প্রি-ক্যাডেট এবং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল গড়ে উঠেছে। আর এসব নাম ব্যবহার করে অভিভাবকদের থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
নগরী ও জেলার প্রত্যন্ত এলাকার পাড়া-মহল্লা এমনকি অলিগলিতেও ঘরে ঘরে এখন চোখে পড়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাতারাতি সাইনবোর্ড তুলে চালু করা হচ্ছে অনেক স্কুল। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে গলাকাটা ফি ও মাসিক বেতন। এর মধ্যে অধিকাংশ স্কুলেরই লেখাপড়ার মান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। উদ্যোক্তাদের অনেকেই প্রথমে কোচিং দিয়ে শুরু করে কিন্ডার গার্টেন স্কুল খুলে বসেছে।
নগরীতে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি কোচিং এবং স্কুলের মধ্যে রয়েছে, ইকবাল নগরে রয়েছে পরশ স্যারের ব্যাচ এর আড়ালে পরশমনি শিশু শিক্ষালয়, শেরেবাংলা রোডে সেলিম স্যারের ব্যাচ এর সোনার তরী শিশু শিক্ষালয়, বাইতি পাড়া বিশ্বজিৎ স্যারের ব্যাচ এর রয়েছে মনমোহনী শিশু বিদ্যানিকেতন, মডার্ন ফার্নিচার মোড়ে নিমাই স্যারের ব্যাচ এর রয়েছে স্বপ্তবর্ণ শিশু শিক্ষালয়, টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে হিরন স্যারের চিলডেন ক্যাডেট স্কুল, খানজাহান আলী রোড নান্নু স্যারের স্বপ্নকুড়ি বিদ্যাপীঠসহ নগরীর অলিগলিতে প্রায় ২০টির মত এরকম প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মেহেরুন নেছার সাথে। তিনি বলেন, কিন্ডার গার্টেন সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা যে সকল কিন্ডার গার্টেনকে নিবন্ধন দিয়েছি তাদের নামের আগে ইন্টারন্যাশনাল এবং ক্যাডেট থাকলে নিবন্ধন দিচ্ছি না বলে তিনি জানান। এছাড়া যে সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুলে এবং মাদরাসায় এখনো ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট এবং প্রি-ক্যাডেট ব্যবহার করা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো বলে তিনি জানান
গোল্ডেন কিন্ডার গার্টেন স্কুল এর পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন, আগে অনেক স্কুলেই ইন্টারন্যাশনাল এবং ক্যাডেট এবং প্রি-ক্যাডেট ব্যবহার করা হতো – এই অধ্যাদেশে পড়ে অনেক স্কুলে এটা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে কিছু কিছু স্কুল এখনো ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট এবং প্রি-ক্যাডেট ব্যবহার করছে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যমতে, খুলনা বিভাগে নিয়মকানুন মেনে ৩০০ কিন্ডার গার্টেন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে খুলনার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস খুলনা থেকে ২২টি, ঝিনাইদহে ৫০টি এবং যশোরে ১৫টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলকে নিবন্ধন দিয়েছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*