Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / বিএনপি’র রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব : আ’লীগে উল্লাস

বিএনপি’র রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব : আ’লীগে উল্লাস

সংসদ নির্বাচনোত্তর খুলনার রাজনীতি

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খুলনার রাজনৈতিক ময়দানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপি নেতারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেতেই রয়েছেন ব্যস্ত। সাংগঠনিক কাজে তেমন সময় দিতে পারছেন না তারা। এছাড়া দলত্যাগের হিড়িকও পড়েছে। অপরদিকে, বিপুল জয়ের কারণে আওয়ামী লীগে বইছে আনন্দ-উল্লাস।
সূত্র মতে, গত ১ জানুয়ারি দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ডিজিটাল ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনরায়কে প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। খুলনা অঞ্চলের মানুষ ভোট দেবার সুযোগ পায়নি। অনেক স্থানে আগেরদিন রাতে আবার অনেক আসনে দুপুর ১২টার আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তিনি খুলনার ছয়টি আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পদত্যাগ : সংসদ নির্বাচনের পর জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও কয়রা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি, উত্তর বেদকাশি ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মতিয়ার রহমান, তার পুত্র উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজল, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এসকে আরিফুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আজিজুল ইসলাম, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোঃ ইউনুস আলী মোল্যা ও সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শাহাজান সিরাজ স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত কারণে দল ত্যাগ করেছেন। উত্তর বেদকাশির ইউপি চেয়ারম্যান ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের প্রভাষক দল ত্যাগ করেছেন। এছাড়া রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি খালিশপুরে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিমের ছেলে কাজী রিয়াজ সুমন দল ত্যাগ করে ক্ষমতাসীন দলে যোগদান করেন।
আ’লীগ : গত ৮ জানুয়ারি স্থানীয় আ’লীগ কার্যালয়ে সৈয়দ আশরাফের স্মরণ সভায় জেলা সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, নগর সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, অঙ্গ সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দুর্বৃত্ত ও মাদক বিক্রেতা যাতে দলে প্রবেশ না করতে পারে সেদিকে সজাগ সৃষ্টি রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় পার্টি ও জেপি : গত ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি ও জেপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক পৃথক আলোচনা সভায় দলকে ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নগর জাতীয় পার্টির নতুন কমিটির ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জেপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন বলেন, দলকে সংগঠিত করে সরকারের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
জাকের পার্টি : সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান গত সপ্তাহে জেলা শাখার সাবেক সভাপতি বদরুদ্দীন বদু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী মাসুম, নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান কুমকুমকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
সিপিবি : বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল নগর সিপিবি গত ৫ জানুয়ারি দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনোত্তর এক মূল্যায়ন সভার আয়োজন করে। নগর সভাপতি এইচএম শাহাদাৎ সভায় সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় বক্তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রহসন বলে আখ্যায়িত করেন।
ওয়ার্কার্স পার্টি : গত ৪ জানুয়ারি দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি খুলনা জেলা শাখার এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিনা মিজানুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিউনিস্ট আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সকল উপজেলা শাখা শক্তিশালী ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কর্মসূচি নেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, দলকে শক্তিশালী করতে শিগগিরই কনগ্রেস আহবান করা হবে।
১৪ দল : গত ৩ জানুয়ারি ১৪ দলের একাংশের উদ্যোগে আইনজীবী সমিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা নেতা মিনা মিজানুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় জেপি’র শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, সাম্যবাদী দলের এফএম ইকবাল, ন্যাপের তপন ভট্টাচার্য, ওয়ার্কার্স পার্টির মফিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় খুলনার ৬টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*