Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / কৃষকের হাত বদলালেই দাম বাড়ে সবজির

কৃষকের হাত বদলালেই দাম বাড়ে সবজির

স্টাফ রিপোর্টার : ধীরে ধীরে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের নানা ধরনের সবজিতে বাজার ভরে গেছে। শীতের সবজির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে বাজার। তাজা-টাটকা সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম যথেষ্ট চড়া। বিক্রেতাদের দাবি দাম কম কিন্তু কৃষকের হাত থেকে সবজি ছাড় পেলেই ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে এর মূল্যও। যথাযথ বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য সহনীয় রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।
সরেজমিন মহানগরীর টুটপাড়া, নিউমার্কেট, মিস্ত্রিপাড়া, কেসিসি সান্ধ্য বাজার, দোলখোলা বাজার, বাইতিপাড়া বাজারসহ অন্যান্য কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলো শীতের সবজিতে ভরা। শিম, নতুন আলু, পেঁয়াজের কলি, টমেটো, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, লাউ, মটর, শালগম ও নতুন বেগুনসহ নানা রকমের সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। শীতের সবজি প্রথম ওঠা শুরু হলে দাম বর্তমানের তুলনায় বাড়তি ছিল। এটিকে সবাই অনেকটা স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু শীতের মধ্যবর্তী সময়েও বাড়তি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে এটিকে অস্বস্তিকর বলে মনে করে ভোক্তারা।
রূপসা স্ট্যান্ড এলাকার মোঃ আব্দুস সালাম জানান, সবজিগুলো দেখেই মনে হয় বেশ সতেজ। কিন্তু দামও সতেজের মতো তুলনামূলক বেশি। পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া এলাকায় সবজির যে দাম, সেই সবজির দাম নগরীতে প্রায় দ্বিগুণ।
রূপসা এলাকার অপর এক ক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, কৃষকের কাছে দাম কম থাকে কিন্তু বাজারে দাম বেশি থাকে। তাও তুলনামূলক অনেক বেশি। যথাযথ মনিটরিং এর মাধ্যমে সবজির দাম ভোক্তা পর্যায়ে সহনীয় রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
নগরীর জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা রেনু বেগম জানান, মাস দুয়েক ধরেই ভারতীয় টমেটো বিক্রি হচ্ছিল ১শ থেকে ১শ ২০ টাকায়। নতুন টমেটো বাজারে আসায় এখন তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকায়।
নগরীর নিউমার্কেট এলাকার সবজি বিক্রেতা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দাম কমছে কিন্তু ধীওে ধীরে। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, কাঁচা ঝাল ৪০, নতুন আলু ৩৫, শীম ২০-৬০, ফুলকপি ২০, বাঁধাকপি ১৫-২০, শালগম ২০-৩০, বরবটি ৪০, টমেটো ৩০, চিচিংগা ৩০, মটর ৮০, পটল ৪০, পেঁয়াজের কলি (পেঁয়াজ পাতা) ২০ টাকা এবং মাঝারী সাইজের লাউ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেসিসি পাইকারী কাঁচা বাজার কল্যাণ সমিতির (সোনাডাঙ্গা পাইকারী কাঁচা বাজার) সভাপতি শেখ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সবজির দাম একই রয়েছে। চারাগাছ লাগানোর সময় বৃষ্টিতে অনেক গাছ নষ্ট হয়। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে মাঠ থেকেই সবজির দাম বাড়তি।
ডুমুরিয়ার চুকনগর কাঁচা বাজার মালিক সমিতির সভাপতি গাজী নজরুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ের আড়তগুলোতে সবজির দাম বেশ কম। কিন্তু মধ্যসত্বভোগীদের হাতে মাল গেলেই দাম বেড়ে যাচ্ছে। কৃষক দাম পাচ্ছে কম। কিন্তু লাভ করছে ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া এ অঞ্চলের সবজি ঢাকাসহ সারাদেশে যাচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*