Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, জীব বৈচিত্র্য হুমকিতে

দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, জীব বৈচিত্র্য হুমকিতে

বটিয়াঘাটায় কাঠ কয়লার চুল্লি

আসাফুর রহমান কাজল
বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলার মাথাভাঙা এলাকায় ফসলী জমির মধ্যে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কার্যক্রম চলছে হরহামেশাই। ফসলি জমি, বসতি এবং বেড়িবাঁধের পাশে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে কয়লা। ফলে পরিবেশ দূষণ, বৃক্ষ নিধন, ফসলী জমি ও জনস্বাস্থ্য হুমকিসহ নানা ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকবাসী।
সরেজমিন দেখা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা মাথাভাঙা এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়লা তৈরির ভাটা। ফলে চারপাশেই ছড়িয়ে যাচ্ছে ধোঁয়া। কালো ধোঁয়ায় আশপাশের গাছ-গাছালি পুড়ে গেছে। বিক্রির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে শত শত বস্তা কয়লা। নদী পাড়ে রয়েছে শতাধিক মণ শিরিস, চম্বল কাঠ। চুল্লির ভেতরে ঢুকে কয়লা বের করছেন এক শ্রমিক। বাজারে চাহিদা থাকা এবং প্রশাসেনর নীরব ভূমিকায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন চুল্লি। রাতে চলে ফায়ারিং (নতুন চুল্লিতে আগুন দেওয়া) এর কাজ। তখন এলাকা ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়। এসব চুল্লি থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত হতে থাকে কালো ধোঁয়া। আশপাশের এলাকার বাতাসে রয়েছে ধোঁয়াটে গন্ধ। এ এলাকায় বিমল কু-ুর ৪টি চুল্লি, আবুলের ৩টি, ইমন খাঁ’র ৩টি, টুকুর ২টি, ইয়াহিয়ার ৫টি, নয়নের ৩টি এবং বাকেরের ৫টিসহ মোট ২৫টি কয়লা ভাটা বা কাঠ কয়লার চুল্লি রয়েছে। যার ফলে সকল শ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করায় দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। নষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য। এসব কয়লা চুল্লির কালো ধোঁয়ায় এলাকার নানা প্রজাতির গাছের ফলন কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে এ পরিবেশ দূষণের কাজ চললেও প্রশাসনের নীরবতাকেই দায়ি করছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সেখানে কয়েকটি চুলা কাঠ ভরাট করে ফায়ারিং এর জন্য রাখা হয়েছে। কয়েকটি চুলার কয়লা বের করে বস্তা ভর্তি করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আর রয়েছে শিরিস, চম্বল কাঠের গুড়ি।
এ এলাকায় বাগেরহাট থেকে বেড়াতে এসেছেন মোসাঃ রোমেছা বেগম। তিনি জানান, এলাকাজুড়ে ধোঁয়াটে গন্ধ। নদীর পাড়ে এসেও মন ভরে দম নেওয়া যায় না। দম নিলেই কাশি আসে। পাশের গাছগুলো পুড়ে পুড়ে গেছে। আমরা দু’দিনের জন্য বেড়াতে এসে সমস্যা হচ্ছে। তাহলে এখানকার মানুষ আস্তে আস্তে অনেক সমস্যায় পড়বে। তখন হাসপাতালের বিছানা আর ছাড়তে পারবে না।
একই এলাকার রবিন ঘোষ জানান, গাছ-পালা সব নষ্ট গয়ে যাচ্ছে। নদীর ঘাটের দিকে যাওয়া যায় না। ধোঁয়ার দম বন্ধ হয়ে আসে। চোখ জ্বলে। এরা এলাকায় প্রভাবশালী বলে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। আজ আমি বললাম। কাল দেখা যাবে আমারে ওরা সমস্যা করেছে। তাই বলে পরিবেশের ক্ষতিতো মেনে নেওয়া যায় না। এর কারণে এখন আর গাছে বেশি ফলন হয় না।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ সুশান্ত কুমার রায় জানান, এমন কালো ধোঁয়াতে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হয়। এছাড়া বুকের সমস্যাও হয়। জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়।
বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী জানান, এ বিষয়টি আমাদের নলেজে নেই। আমরা খোঁজ নেব। বেআইনী এবং জনস্বাস্থ্যের হুমকি হতে পারে এমন কর্মাকা-ের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় তৎপর। আমরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*