Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / নগরীতে ইজিবাইক প্রবেশ-বাহিরে নিষেধাজ্ঞা

নগরীতে ইজিবাইক প্রবেশ-বাহিরে নিষেধাজ্ঞা

রোববার থেকে মাইকিং, বসছে আটটি চেক পোস্ট

খলিলুর রহমান সুমন
আগামী ১৫ জানুয়ারির পর থেকে খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইক প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। এ জন্য তারা নগরীর আটটি পয়েন্টে চেক পোস্ট বসাবে। রোববার থেকে ইজিবাইক মালিক-চালকদের এ ব্যাপারে অবগত করার জন্য নগরীতে মাইকিং হবে। নগরীতে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেসিসি এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যে সব ইজিবাইক নগরীর বাইরে অবস্থান করে তারা যাতে নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে। এছাড়া নগরীর ইজিবাইক যাতে নগরীর বাইরে না যেতে পারে এ জন্য নগরীর ৮টি পয়েন্টে চেক পোস্ট বসানো হবে। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে এ সব চেক পোস্টে কর্মী বসানো হবে। ওই কর্মীরা কেসিসির কর্মচারী। তারা উল্লিখিত বিষয়গুলো যাতে লঙ্ঘন না হয় সে জন্য দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে চেক পোস্ট বসানোর স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে গল্লামারি ব্রিজ, ময়ূর নদী ব্রিজ, খানজাহান আলী (র.) সেতু, মোস্তর মোড়, বাস্তুহারা, তেলিগাতী ল্যাবরেটরি মোড়, যোগীপোল মোড় ও বাদামতলা বিআরটিএ অফিস মোড়। নগরীতে ইজিবাইক প্রবেশ-বাহির হওয়া ঠেকাতে এ সব পয়েন্টে ১ জন করে কর্মী থাকবে। ইজিবাইক মালিক-চালকদের এ ব্যাপারে অবগত করার জন্য কেসিসির উদ্যোগে রোববার থেকে নগরীতে মাইকিং শুরু হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। ইজিবাইক নিয়ে মেয়রের প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্যোগ হচ্ছে নগরীতে ইজিবাইক ইন-আউট বন্ধ করা। পরে মেয়র ইজিবাইকের লাইসেন্সের ব্যাপারে কথা বলবেন বলে এস কে এম তাছাদুজ্জামান জানান।
মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মানিক জানান, সিটি কর্পোরেশন ইজিবাইকের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ভাল উদ্যোগ। এতে করে নগরীতে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা কমবে। এ উদ্যোগ যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করতে হবে বলে এ নেতা জানান।
মহানগর ইজিবাইক মালিক-চালক ঐক্য সংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিলন বলেন, কেসিসির এ উদ্যোগ ইজিবাইক মালিক-চালকদের জন্য সুখবর। এতে নগরীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। বাইরের ইজিবাইক নগরীতে বেশি প্রবেশ করে। নগরীতে এখন ৮/১০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এতে করে যানজট বেড়ে যায়। তবে নগরীর ইজিবাইক চেনার জন্য যে কোনো চিহ্ন দিয়ে সনাক্ত করা উচিত বলে এ নেতা মনে করেন।
উল্লেখ্য, নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট নিরসনে ২০১৬ সালের ১১ মে খুলনার তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ইজিবাইকের লাইসেন্সের ব্যাপারে সভার আহ্বান করেন। সভায় নগরীতে ইজিবাইকের সংখ্যা ৫ হাজারে নামিয়ে আনা, ইজিবাইকের শো-রুম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই আলোকে ৫ হাজার ইজিবাইকের চলাচলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কেসিসি। কিন্তু ওই ৫ হাজার ইজিবাইক মালিককে অবশ্যই মহানগরীর স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। তবে পূর্বের ১ হাজার ৯৬৩টি ছাড়া নতুন আরও ৩ হাজার ৪০টি ইজিবাইকের এ অনুমতির আওতায় পড়বে। ৪ অক্টোবর’১৭ নগর ভবনে দু’ সংসদ সদস্য, মেয়র ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*